বাস্তুশাস্ত্রে কি ‘পিরামিড’ সম্পর্কে অধ্যয়ন করা হয়? পিরামিড গঠনশৈলীতে শক্তির প্রতিক্রিয়া কীভা

 
প্রশ্নঃ মূল জমির লাগোয়া অন্য জমি প্রায় ক্ষেত্রেই আমরা পাই।জিজ্ঞাস্য, মূল জমির লাগোয়া কোন কোন দিকের জমি ভাল -যা সম্ভব হলে মূল জমির অংশ হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে এবং কোন কোন দিকের জমি অশুভ -সে সম্পর্কে বাস'সম্মত মতামত কী?

উত্তরঃ প্রথমেই বলা হয়েছে যে, বাস্তুশাস্ত্রের সম্বন্ধ স্থাপত্যবিদ্যার সঙ্গে জড়িত।আমাদের শাস্ত্র প্রণেতারা বলেছেন কীভাবে একটি সাধারণ আকৃতি অথবা কাঠামো নিজের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে শক্তি ও প্রকাশ ছড়ায়।এই কাঠামো একবর্গ, ত্রিভূজ ও ষড়ভুজ ইত্যাদি যে কোনও রকমেরই হতে পারে।হবে ত্রিভূজ ও তার কেন্দ্রগুলি থেকেই সব থেকে বেশি শক্তি পাওয়া যায়।এই কারণেই স্থাপত্যে ত্রিভূজাকৃতিকে শক্তির স্রোত বলে মনে করা হয়।বিভিন্ন পুরাণ শাস্ত্রে সাধারণভাবে এবং যন্ত্র বিজ্ঞানে বিশেষ করে ত্রিভূজ আকারের প্রয়োগ বিধান সম্বন্ধে বলা হয়েছে।

প্রাচীন মিশরে পিরামিড ত্রিভূজকৃতি গঠনশৈলীকে বিশেষভাবে প্রয়োগকরা হয়েছে।যে সমস্ত পিরামিড যা আজও আমরা দেখতে পাই, তার মাপ বিস্তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং কোণ বিশাল পিরামিড বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে আছে।এগুলিকে কুফুও বলা হয়ে থাকে।পিরামিড ভিতরে একটা শক্তিক্ষেত্র তৈরি হয়।এই শক্তিক্ষেত্র তৈরি হয় এই সব কারণে।

১।
চারটি ত্রিভূজাকার দিক শক্তির প্রসার ঘটায়।
২।
২। বর্গাকার ভিত শক্তির প্রসার ঘটায়।
৩।
সূর্যের রশ্মির যে প্রকাশ পিরামিডের পাদদেশে গিয়ে পড়ে তা এপার-ওপারে চলে যেতে সক্ষম হয়।এর একমাত্র কারণ হল পিরামিডের অসামান্য নির্মাণশৈলী।
৪।
পৃথিরীর সমতুলে শক্তির কেন্দ্র আছে।
৫।
পৃথিরীর সমতলে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র আছে।


এই পাঁচটি শক্তিক্ষেত্র পরস্পর মিলিত হয়ে এক নতুন ও বেশি শক্তিশালী ক্ষেত্র গড়ে তোলে।এ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থেকেও অনেক কিছু জানা গিয়েছে।যেমন দাড়ি কামানোর ব্লেড পিরামিডের তলায় রেখে দিলে তার ধার অনেক বেশি দিন থাকে।পিরামিডের নীচে খাদ্যদ্রব্য রেখে দিলে তা অনেক বেশি দিন টাটকা থাকে।ব্যাটারির সেল পিরামিডের সাহায্যে আগের থেকে সজীব হয়ে যায়।পিরামিডের মধ্যে রাখা পানি রোগীদের চিকিৎসার পক্ষে ভাল।

বাস্তুশাস্ত্রে বিভিন্ন আকার যেমন, ত্রিভূজ, চতুর্ভূজ, পঞ্চভূজ, ষষ্টভূজ, অষ্টভূজ ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হযেছে।বিভিন্ন আকারের উর্জার স্রোত পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ত্রিভূজের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সর্বাধিক উর্জার স্রোত।এই কারণেই পিরামিডের ভিতর লক্ষ লক্ষ বৎসর পুরানো মমি রাখা হয়েছে।আর পিরামিড আসলে ত্রিভূজাকার বলে পিরামিডের মধ্যে এত উর্জার স্রোত দেখা যায়।

পিরামিড তৈরির সহজ পদ্ধতি নীচে দেওয়া হল।

চিত্রঃ

পিরামিড নির্মাণে পিতল, তন্তু, কাঠ, প্লাইউড, ইট ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।কিন্তু লোহা বা স্টিল ধাতু নৈব নৈব চ।আর সর্বদা উত্তর-দক্ষিণে সমান্তরাল রাখতে হবে তবে বৈদ্যুতিক তার ও টিভির তার থেকে দূরে রাখা উচিত।

চিত্রঃ