সিংহ রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
সিংহ রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
রাশিচক্রের পঞ্চম ঘর, দ্বিতীয় স্থিররাশি ও অগ্নিরাশি। আদিত্যদেব স্বয়ং এই রাশির অধীশ্বর।

মঘার ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট, পূর্ব ফাল্গুনীর ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট এবং উত্তর ফাল্গুনীর ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট নিয়ে সিংহ রাশি গঠিত। অধিপতি রবি।

দৈহিক গঠনঃ বৃহদ্বপু, প্রশস্ত স্কন্ধ,বৃহৎগোলাকার মস্তক,অল্পকেশ, সুন্দর ভ্রু, পিঙ্গলবর্ণ চক্ষুঃ,হাড় শক্ত, পূর্বদিক এবং শীর্ষোদয়।

স্বরূপঃ স্থির-অগ্নি-পিত্তরাশি, পুরুষকার, পিত্তপ্রকৃতি, ক্ষত্রিয় জাতি, কালপুরুষের উদর, অধিপতি রবি।

সিংহ রাশির বৈশিষ্ট্যঃ কর্কট রাশিচক্রের চতুর্থ রাশি। এই রাশির পরেই সিংহ রাশি। সিংহ রাশিচক্রের পঞ্চম রাশি। সিংহ রবির শুধু স্বক্ষেত্রেই নয়, এটা তার মূল ত্রিকোণ বা আনন্দভবন। এখানে রবি থাকে প্রসন্ন। সিংহের জাতকের কিংবা জাতিকার মধ্যে থাকে একটা মহান আভিজাত্যের সঙ্গে সৃষ্টিধর্মী শক্তি ও অন্যদের চালিত করার অথবা আকর্ষণ করার বিশেষ ক্ষমতা। ভাদ্রের বা শরতের শুরু এই রাশিতে। চন্দ্র ও রবির মধ্যে ক্ষেত্র বিনিময় হলে জাতক জাতিকার মধ্যে থাকে মহতী সৃজনী শক্তি,অসাধারণ প্রতিভা ও অন্তর্দৃষ্টি। অবশ্য কর্কট ও সিংহ লগ্নের মধ্যে এরূপ হলে সে জাতক যে কোন দেশ ও দশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। মঘা, পূর্বফাল্গুণী ও উত্তর ফাল্গনী এই তিনটি নক্ষত্র পড়ে এই রাশিতে। তিনটি নক্ষত্র দেয় সৃষ্টিধর্মী ক্ষমতা ও মর্যাদালাভের শক্তি। উত্তরফাল্গুনী দেয় গঠনমূলক শক্তি, বিশেষ অনুপ্রেরণা ও সেবাধর্মী মনোভাব। সিংহের জাতকের আত্মমর্যাদার দিকে থাকে বিশেষ লক্ষ্য।

রাশি ও লগ্ন অনুযায়ী প্রত্যেকেরই কতকগুলো গ্রহ শুভ এবং কতকগুলো গ্রহ অশুভ। সিংহের ক্ষেত্রে জন্মকালে রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতির অবস্থান ও প্রভাবের উপর তা বিশেষ নির্ভর করে। প্রভুত্ব ও শাসনক্ষমতার শক্তি দেয় এই সিংহরাশি। তার মধ্যে সৃষ্টিধর্মী শক্তিও রয়েছে। রাশিটি বিরুদ্ধ গ্রহের  দ্বারা পীড়িত হলে জাতককে স্বার্থান্ধ ও যাদের সাহায্যে নিজে মাথা তুলে দাড়িয়েছে, তাদেরও অসন্তুষ্টির বা অনিষ্টের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আত্মসম্মানজ্ঞান প্রবল। ঈষৎ গর্বিত। সব ব্যাপারে আগ্রহী। অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা একেবারেই ভালবাসেন না। আনন্দের নেশা হয় প্রবল। যাক-প্রাণ-থাক-মান এই হয় জাতকের মূলমন্ত্র।

সকলের জন্য নিজের স্নেহ প্রীতি ভালবাসা উজাড় করে ঢেলে দেয়। সর্বহারা শ্রেনীর নের্তৃত্বে প্রশংসা অর্জন করে। নিজের বিচারবুদ্ধির উপর আস্থা তীব্র। কিন্তু সব সময় সঠিক পথ খুঁজে পায়না। ভুল পথে অগ্রসর হয়ে পরে পস্তায়। পরেপকারের দিকে ঝোক। সব সময় ভাবপ্রবণতা এ জেদের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে গিয়ে ট্রাজেডির যন্ত্রণা ভোগ করে। বাস্তব অবস্থার সম্মুখীন হয়ে হঠাৎদিশাহারা হয়ে পড়ে। বিদ্যাচর্চা পুরোদমে আরম্ভ করলেও তা শেষ করতে পারে না ভাবপ্রবণতা ও আলস্যের জন্য। জাতক মিষ্টি কথায় সহজেই ভুলে গিয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে। জাতকের উদার মনের সুযোগ সবাই নিয়ে নিন্দা অখ্যাতি জাতকের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। জাতকের প্রতিভা বহুমুখী। জাতক অত্যন্ত বুদ্ধিসম্পন্ন ও প্রত্যুৎপন্নমতি।

জাতক অদ্ভুত খেয়ালী। অতিরিক্ত কল্পনাপ্রবণ ও ভাবপ্রবণ। সকলের কাছ হতে প্রশংসা পেতে চাইবে জাতক। পরোপকারের দিকে ঝোঁক প্রবল। সবাইকে আপন করে নেবার দিকে একটা ঝোঁক থাকবে। জাতক সর্বদা নিজের ভোগবিলাসের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে। রোমান্সের দিকে অত্যন্ত ঝোঁক পড়বে। স্মৃতিশক্তি ও ধারণাশক্তি খুব তীক্ষ্ণ। যে কাজে হাত দেবে তা তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। অপরকে অতি সহজেই বিশ্বাস করে জাতক। জীবন যুদ্ধে জাতক কখনও পিছিয়ে পড়তে চাইবে না। গোপনাত রক্ষার দিকে জাতক সর্বদা চেষ্টা করবে। আধ্যাত্মিক দিকেও প্রবল হয়ে থাকে। সব কাজেই প্রায় বুদ্ধিনৈপুন্য প্রকাশ পায়। নিজের মনকে জাতক বেশী প্রাধান্য দেয়। সেজন্য অপরের মনের গুহার খবর রাখতে অসমর্থ হয়। মনের মধ্যে সর্বদা ওঠাপড়া চলে। আনন্দের নেশা অত্যন্ত প্রবল হয়। হঠাৎক্রোধী। জাতকের মধ্যে একটা অসংযমী ভাব প্রকাশ পায়। কোনটা ভাল কোনটা মন্দ সহজে বুঝে উঠতে পারে না।

ভাগ্যঃ নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েই জাতকের ভাগ্য বেড়ে উঠে। অথবা জাতক নানা সুযোগ পেয়েও তা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পেরে কষ্ট পায়। চরম কষ্টের মধ্যেও জাতকের অর্থ আপনা হতেই এসে যায়। বুদ্ধিবৃত্তি ও অধ্যবসায় প্রবল বলে কৌশলে অবস্থার পরিবর্তন করতে সমর্থ হয়। দ্বিতীয় বা ধনপতি বুধ বিভিন্ন ভাবে জাতকের অর্থলাভ ঘটায়। যন্ত্রবিদ, হিসাবরক্ষক, প্রকাশনার ব্যবসা এবং সামরিক ও পুলিশ বিভাগে বিশেষ কৃতিত্ব দেখায়। স্বাধীন বৃত্তিতেই জাতকের প্রতিষ্ঠা আসবে। জ্যোতিষ, পুস্তকরচনা, চিত্রাঙ্কন এবং চিকিৎসা ব্যবসায়ে জাতক প্রতিষ্ঠা ও অর্থোপার্জনে সমর্থ হবে। ১৮ থেকে ২৪ বর্ষ মধ্যেই অর্থোপার্জন আরম্ভ হয়। জীবনযাত্রা ভালই যায় যদি সংকল্পের অস্থিরতা দেখা না দেয়। পিতার সঙ্গে মতবিরোধ জাতকের বিশেষ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনে রাখতে হবে জীবন ও ভাগ্যের পথ ক্ষুরধার ও দুর্গম। সময় থাকতে সতর্কভাবে অগ্রসর হলে জাতককে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত ও মহাধনবানে পরিণত হতে বেগ পেতে হয় না।

কর্মজীবনঃ কর্মজীবন খুবই উন্নত হয় যদি অলসতা ও খামখেয়ালীপনাকে জাতক প্রশ্রয় না দেয়। শুক্র জাতকের কর্মপতি। কাজেই কল্পিত চিত্র, কাব্য, অভিনয়, জ্যোতিষচর্চা, কুটির শিল্পে জাতক নৈপুণ্যের পরিচয় দিতে পারে। খুব তাড়াতাড়ি জাতকের কমর্সাফল্য আসে। কারো প্রলোভনে পড়ে প্রকৃতি-বিরুদ্ধ কর্মে আত্মনিয়োগ ভীষণ ক্ষতি ডেকে আনবে। ২২ থেকে ৩২ বর্ষ সময়ের মধ্যে জাতকের প্রতিষ্ঠা অবশ্যম্ভাবী ঘটে থাকে। কর্মজীবন মোটামুটি খারাপ যায় না। হাতের কাজেই জাতক দু-হাতে পয়সা উপার্জন করতে সমর্থ হবে।

প্রেম, বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনঃ জাতকের মধ্যে একটা সহজাত আকর্ষণ থাকায় স্ত্রীলোকেরা সহজেই জাতকের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। জাতকের মধ্যে একটি প্রেমের বিকাশ ঘটে। যাকে ভালবাসবে তার জন্য নিজেকে উজাড় করে দেবে। স্ত্রী মার্জিত-রুচি,বিলাসিনী ও আরামপ্রিয় হয়ে থাকে। বিবাহিত জীবনে অগ্রসর হবার আগে বিশেষভাবে ভাবনাচিন্তা করেই অগ্রসর হওয়া উচিত। নচেৎ পরে বিবাহ না প্রণয় অশান্তিময় হয়ে উঠতে পারে। ২২ থেকে ২৯ বর্ষ মধ্যে সাধারণতঃ বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। বিবাহের পর জাতকের উন্নতি ঘটে। জাতক কথামত চলতে ভালবাসবে। সন্তানস্থান শুভ।

বন্ধুভাগ্যঃ বন্ধুভাগ্য শুভ। সহজেই বন্ধুত্বলাভ করতে সমর্থ হয়। বন্ধুরা জাতকের উন্নতির জন্য সহজেই সচেষ্ট হয়। জাতক বন্ধুর জন্যে যে কোন ত্যাগ স্বীকারে কুন্ঠিত হবে না। কোন বিশিষ্ট বন্ধুর দ্বারা জাতক কর্মজীবনে বিশেষ প্রতিষ্ঠা পায়। তবে বান্ধবী থেকে জাতকের সতর্ক থাকা উচিত।

স্বাস্থ্যঃ টনসিল, ফুসফুসের দৌর্বল্য,শ্লেষ্মাপীড়া, শিরোরোগ, গলার অসুখ ও পাকস্থলীর বৈকল্যে বিশেষ কষ্ট পায়। অধিকরাত্রি জাগরণ জাতকের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে দেখা দেয়। জর্দা, মদ্য তামাক ও টক সর্বতোভাবে পরিত্যজ্য। ২২ বর্ষ পর্যন্ত বিশেষ সাবধানে চলাফেরা করা উচিত। নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, নির্মল জলে স্নান এবং ভ্রমণে স্বাস্থ্য অনিন্দনীয় থাকবে। মস্তিষ্কে সর্বতোভাবে বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন।

যোগ্যতাঃ ভাবপ্রবণতা ও অদম্য ইচ্ছাকে দমন  করে চলতে পারলে ভাগ্যলক্ষ্মী জাতকের ঘরে বাঁধা থাকবে। রুচি ও শিল্পজ্ঞান সুক্ষ্ম। বিলাসিতাকে প্রশ্রয় না দেওয়াই শ্রেয়ঃ। অমিতব্যয়িতাও পরিণামে দুর্ভাগ্য ডেকে আনবে। প্রায় সব কাজেই যোগ্যতা দেখাতে সক্ষম হবে জাতক। সর্ব কাজ আধাখ্যাঁচড়া করে রাখার জন্য কোন কাজেই সফলতা আসবে না। প্রথম জীবনে আদর্শের রূপায়নে বাধা ঘটলে শেষ জীবনে হা-হুতাশ করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। নিয়মানুবর্তিতা জাতকের প্রতিজ্ঞা, সুনাম ও অর্থলাভে বিশেষ সহায়ক হবে।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

শুভবর্ণঃ সাদা, নীল, গোলাপী, খয়েরী, সোনালী এবং আকাশী রং।

স্মরণীয় বর্ষঃ ১৭,১৮,২০,২২,২৪,২৯,৩০,৩১,৩৮ এবং ৪২ বর্ষ।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন।

ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।