রুদ্রাক্ষ সম্পর্কে কিছু কথা

রুদ্রাক্ষ

একটা গাছের ফল। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা এই রুদ্রাক্ষকে পবিত্র জ্ঞান করে ধারণ করে থাকেন বা ব্যবহার করে থাকেন। নেপাল, চীন, তিব্বত, ভূটান, ইন্দোনেশিয়া, ফিজি, ভারত, আমেরিকাতে রুদ্রাক্ষ বৃক্ষ জন্মে তবে সব বৃক্ষে রুদ্রাক্ষ ফল হয় না, আবার যে গুলি হয় তার মধ্যে ২% থেকে -৩% ব্যবহার উপযোগী। বৃক্ষ পতিত “রুদ্রাক্ষ” ধারণে মানবের চরম ক্ষতি হয়ে থাকে। “রুদ্রাক্ষ” ফল পরিপক্ক হওয়ার পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করতে হয়। রাজেশ্বরী জ্যোতিষালয় নিজস্ব লোকের মাধ্যমে রুদ্রাক্ষ সহ বহু প্রকার “তান্ত্রিক” দ্রব্য/বস্তু সংগ্রহ করে থাকেন। ১ থেকে ২১ মুখী “রুদ্রাক্ষ” পাওয়া যায়। ৩,৪,৫,৬ মুখী রুদ্রাক্ষ বেশী পাওয়া যায়। ১৪ মুখী থেকে ২১ মুখী রুদ্রাক্ষ দুষ্প্রাপ্য ও দূর্ল্ভ। বর্তমান সময়ে ভারতের ওয়েব সাইটে ক্লিক করলেই দেখবেন যে হাজার হাজার কেজি রুদ্রাক্ষ তাঁহারা সরবরাহ করতে সক্ষম যা আদৌ খাঁটি রুদ্রাক্ষ নয়।
রুদ্রাক্ষের ন্যায় হুবুহ দেখতে আরেকটা ফলের নাম “ভদ্রাক্ষ”। এক্সর্পাট ব্যক্তি ছাড়া রুদ্রাক্ষ ও ভদ্রাক্ষ র্নিনয় করা কঠিন ব্যপার। এর কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা আছে যা আমি ওয়েব সাইটে প্রকাশ করলাম না।

 

সাবধান

বাজারে নকল “রুদ্রাক্ষ” প্রায় ৯৮%। ২% খাঁটি রুদ্রাক্ষ ব্যবহার উপযোগী, তাও অনেক মূল্য। বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাঠের গুড়ার সাথে লোহা, সীসা, গ্যালিলিথ নামক রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণ করে রুদ্রাক্ষ তৈরী করা হয় যার বড় বাজার হচ্ছে নেপাল, বোম্বে ও বাঙ্গালোরে সহ গোটা বিশ্বে । যেহেতু নেপালে রুদ্রাক্ষ বৃক্ষ জন্মে তাই বিদেশীরা মনে করে থাকেন নেপালেই খাঁটি রুদ্রাক্ষ পাওয়া যায়। নেপালে ব্যবসায়ীরা ৩/৪ হাজার টাকায় খাঁটি রুদ্রাক্ষের একটি পিছও সরবরাহ করতে পারেন  না পক্ষান্তরে নকল পেয়ে যাবেন ৮/৯ টাকায় ।  আমাদের দেশের (বাংলাদেশের) অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গকে বলতে শুনেছি নেপাল থেকে মালটা কিনেছি ২৭০০০ হাজার রুপি দিয়ে ১০টি রুদ্রাক্ষের মালা, অথচ আমি ১টি ভাল মানের ৫ মুখী রুদ্রাক্ষ ২৭০০০/- টাকা বিক্রি করতে পারিনা।
আমি সবাইকে একটা কথাই বলে থাকি আর সেটা হলো “আগে নকল জিনিস চেনার চেষ্টা করুন, কারণ নকল না চিনলে,  নকল সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে আসল চিনতে পারবেন না।” তাই আগে নকল চিনুন। খাঁটি রুদ্রাক্ষের দানাতে ৫০.০৩১% কার্বন, ০.৯৫% নাইট্রোজেন, ১৭.৮৯% হাইড্রোজেন এবং ৩০.৫৩% অক্সিজেন বিদ্যমান।

গাছের সব রুদ্রাক্ষ কি ব্যবহার উপযোগী?

রুদ্রাক্ষ গাছের সব রুদ্রাক্ষ ব্যবহার উপযোগী হয় না; এর মূল কারণ হলো ফল কাঁচা থাকা অবস্থায় প্রাকৃতিক কারণে ৫০-৭০% র রুদ্রাক্ষ ফল ঝরে পড়ে; যা থাকে কিছু অপরিপক্ক এবং কিছু পরিপক্ক। (সাধারণত বৃক্ষ পতিত রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে নাই) ৩০-৪০% যে রুদ্রাক্ষ গাছে থাকে তা অভিজ্ঞ ব্যক্তি দিয়ে সংগ্রহ করার পর দেখা যায় যে ২% থেকে -৩%  ধারণ উপযোগী রুদ্রাক্ষ পাওয়া যায়-  যার অধিকাংশই ইউরোপ, আমেরিকায় রপ্তানী হয়ে যায়। নির্দোষ রুদ্রাক্ষ পাওয়া বড়ই দুষ্কর। কিন্তু পাওয়া যায়। বাজারে খাঁটি রুদ্রাক্ষ পাওয়া বড়ই দুষ্কর।  যাও  পাওয়া যায় তা দোষযুক্ত এবং মূল্যও অনেক বেশী। পক্ষান্তরে দোষমুক্ত রুদ্রাক্ষও পাওয়া যায়। ১৮৮৬ সালে নেপালের রঘুবীর থাপা নামক এক ব্যক্তি ১টি --- ১ মুখী গোলাকৃত রুদ্রাক্ষ পেয়েছিলেন যা তৎকালীন সময়ে ৭০ লক্ষ রুপির বিনিময়ে ভারতের টাটা কোম্পানীর জনৈক ব্যক্তি ক্রয় করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে আজও ঐ ১ মুখী গোল দানা রুদ্রাক্ষ টাটা বংশেই রয়ে গেছে। এতদভিন্ন হয়তোবা কিছু কিছু ধনাঢ্য পরিবারে ২/৪ পিছ গোলাকার ১ মুখী রুদ্রাক্ষ থাকতে পারে। কিন্তু ১ মুখী গোলাকার দানা রুদ্রাক্ষ হচ্ছে সবশ্রেষ্ঠ রুদ্রাক্ষ যাহা পাওয়া যায় না। বর্তমান সময়েতে দেখা যায় যে চন্দ্রাকৃতি ১ মুখি রুদ্রাক্ষ--  ফলাও করে –  মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করছেন যাহা সম্পূনরূপে ১০০% নকল ও কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা।

কেন আপনি রাজেশ্বরী থেকে রুদ্রাক্ষ ক্রয় করবেন !

কেন আপনি রাজেশ্বরী থেকে রুদ্রাক্ষ ক্রয় করবেন !

১। রাজেশ্বরী জ্যোতিষালয় নিজস্ব লোকের মাধ্যমে শুভ তিথিযুক্ত দিনে রুদ্রাক্ষ নেপালের গাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকেন, যাহা বৃক্ষ পতিত নন। বিশেষ প্রক্রিয়ায় রুদ্রাক্ষ ফল এর আবরণ বা খোসা ফেলে রুদ্রাক্ষ সংগ্রহ করা হয়।
২। রুদ্রাক্ষ সংগ্রহের পর যে কয় মুখী যেভাবে সৃষ্টির নিয়মে থাকেন ঠিক সেই ভাবেই সরবরাহ করা হয়, আমরা Retouch করে রুদ্রাক্ষের মুখী হ্রাস বৃদ্ধি করি না, যাহা অন্যরা করে থাকেন।
৩। আমরা ভদ্রাক্ষ (দেখতে সুন্দর ঠিক রুদ্রাক্ষের মত) সরবরাহ করি না কিংবা সংগ্রহও করি না।
৪। আমরা শুধুমাত্র নেপালের পূর্ন পরিপক্ক রুদ্রাক্ষ গাছ থেকে সংগ্রহ করি ফলে আমাদের রুদ্রাক্ষের মূল্য অনেক অনেক গুণ বেশী। কারণ খাঁটি জিনিসের দাম একটু বেশী হবেই।
৫। আমরা ৫ মুখীকে  ১০ মুখী,  কিংবা ১৪  বা ২১ মুখী মেশিনের মাধ্যমে করিনা।
৬। গৌরী শংকর কিংবা ত্রিজুতি রুদ্রাক্ষ আমরা পূর্ব থেকে অর্ডার গ্রহণ করে তৎপর সরবরাহ করে থাকি।
৭। ২ থেকে ২১ মুখী, গৌরী শংকর, ত্রিজুতি রুদ্রাক্ষ আপনি ১০০ ভাগ বিশ্বাস স্থাপন করে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় করতে পারেন। আমরা রুদ্রাক্ষ স্টক করে রাখি না। অর্ডার সাপেক্ষে সরবরাহ করে থাকি।
৮। স্বর্ণে, রৌপ্যে, তামা বা অন্য ধাতুতে কিংবা সূতায় আমরা এক্সপার্ট লোকের মাধ্যমে মালা তৈরী করে সরবরাহ করে থাকি।
৯। কেও যদি কুমারী মেয়ের মাধ্যমে স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা সুতায়  রদ্রাক্ষের মালা নিতে আগ্রহী হন তবে আমরা অর্ডার গ্রহণ করি এবং সরবরাহ করি।
১০। আমরা প্রতিটি রুদ্রাক্ষ শোধন পুরশ্চরণ করে দিয়ে থাকি, আপনি শুধু ধারণ করবেন, অন্য কিছু আপনাকে করতে হবে না।
১১। রুদ্রাক্ষ যে কোন ধর্মের নর- নারীগণ ব্যাবহার করতে পারবেন।
১২। রুদ্রাক্ষ ধারণে কিংবা ব্যাবহারে খাদ্য নিয়ে কোন বাচ – বিচার নেই।
১৩। রুদ্রাক্ষ কোন প্রকার ক্ষতি কারক ফল প্রদান করে না। অর্থাৎ রুদ্রাক্ষের ভাল ফলা ফল সব সময় পাবেন।
১৪। সব বয়সের নর- নারীগণ রুদ্রাক্ষ ব্যাবহার করতে পারবেন ।