রুদ্রাক্ষ ধারণে অসাধ্য সাধন

শাস্ত্রমতে রুদ্রাক্ষ ধারণে অসাধ্য সাধন

অনেকে বলে থাকেন যে রুদ্রাক্ষ হিন্দু  ধর্মের লোকেরা ধারণ করে থাকেন  যার স্বপক্ষে কোন ধর্মীয় দলিল নেই। মন গড়া কথা। রুদ্রাক্ষ এক প্রকার গাছের ফল যা উপকার পাবার নিমিত্তে সব ধর্মের মানুষ ভক্তি সহকারে ধারণ করতে পারেন । রুদ্রাক্ষ ধারণে খাওয়া খাদ্যের কোন বিচার করতে হয়না। সব ধর্মের  নর নারী রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারবেন, রুদ্রাক্ষের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই।  রুদ্রাক্ষ সূর্যের  সপ্তরশ্মিকে শোষনের মাধ্যমে মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও সাধারনভাবে শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখে। রুদ্রাক্ষ রক্তস্রোতকে সচল রাখে এবং স্নায়ুর স্নিগ্ধতা সাধন করে।

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিভিন্ন প্রকার ‘প্রতিকারে’র উল্লেখ আছে। প্রতিকার হিসাবে জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহরত্নের পরিবর্তে রুদ্রাক্ষ ধারণের স্বতন্ত্র প্রভাবও স্বীকৃত হয়েছে।  আয়ুর্বেদ সংহিতায় বৈদ্যকে দ্রব্যাভিধানে রুদ্রাক্ষকে উষ্ণগুণসম্পন্ন বাত, কৃমি, শিরারোগ, অশুভ গ্রহ প্রভাবের  বিনাশক বলা হয়েছে। তন্ত্রজ্যোতিষমতে গ্রহগণের মন্দভাবকে প্রশমিত করে থাকে এই রুদ্রাক্ষ। প্রকৃত রুদ্রাক্ষ অত্যন্ত মূল্যবান, দুষ্প্রাপ্যও বটে।

রুদ্রাক্ষ ধারণে মানুষ অপরাজেয় হয়। উচ্চ রক্তচাপ, হিস্টিরিয়া, হৃদরোগ, বসন্তরোগ, শ্লেষ্মাধিক্য, ক্ষয়রোগ, স্মৃতিশক্তিহীনতা, বদহজম, পিত্ত, বাত, মেয়েদের নানা ব্যাধি প্রভৃতির উপশম হয়ে থাকে। এ ছাড়া রুদ্রাক্ষ ধারণে অশান্ত মনে শান্তি ফিরে আসে। জীবনের বহুবিধ বাধাবিঘ্নের উপরেও রুদ্রাক্ষের নিয়ন্ত্রণ দৃষ্ট হয়, যেমন ক্ষয়ক্ষতি, অমিতব্যয়ী স্বভাব, হীনমন্যতার ক্ষেত্রেও রুদ্রাক্ষ ধারণের সুফল পাওয়া যায়। মারক গ্রহগণের অশুভ প্রভাবকে দূর করে এই রুদ্রাক্ষ।  কালসর্প যোগে যাদের জন্ম, এই রুদ্রাক্ষ ধারণে তারা সবিশেষ উপকৃত হবেন। গ্রহের অশুভ প্রভাবে জ্যোতিষশাস্ত্র মতে যেসব রোগ উৎপন্ন হয় এবং ডাক্তারি শাস্ত্রে যে সমস্ত রোগ নির্নয় করাও সহজসাধ্য নয়, রুদ্রাক্ষ ধারণে তার উপশম হওয়া সম্ভব।

রুদ্রাক্ষ এলিওকারপাসি ফ্যামিলিভুক্ত, সমগ্র পৃথিবীতে এর ৯০টি প্রজাতি আছে তার মধ্যে ভারতবর্ষে ১৯টি বর্তমান। গাছটি দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের মাঝারি ধরণের বকুল গাছের সঙ্গে সাদৃশ্য আছে। তার গুচ্ছবদ্ধ ফল আকারে ও বিন্যাসে পিটুলি গাছের মতো। ফলের শাস টক। এই শাস মৃগী রোগে দেওয়ার রেওয়াজ আছে। এর বীজগুলি সাধারণতঃ পাচটি কোষ (কোয়া) একত্রীভূত অবস্থায় থাকে। প্রতি দুটি কোষের মাঝখানে একটি রেখা বর্তমান, এইরকম পাচটি রেখাযুক্ত রুদ্রাক্ষকে ‘পঞ্চমুখী’ বলা হয়। এটিই হচ্ছে স্বাভাবিক। দুলর্ভ বলে সেগুলির মূল্য অনেক বেশি। এই রুদ্রাক্ষটি প্রধানত জন্মে নেপাল, অসম ও দক্ষিণ কঙ্কণঘাট অঞ্চলে। অন্যান্য স্থানেও কখনও কখনও দেখা যায়, তবে রোপণের প্রয়োজন হয়। এটির বোটানিক্যাল নাম এলিওকারপাস গ্যানিট্রাস আর একটি রুদ্রাক্ষ জাভার মোরাবায়া, কাবুমেন, সোলো, সামারণ ও ক্যাডোরীর পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সংগৃহীত হয়। এর বীজগুলি ছোট, উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে এটির নাম এলিওকারপাস টালসারকুলেটাস।

বিভিন্ন শাস্ত্রে এক থেকে চৌদ্দমুখী পর্যন্ত রুদ্রাক্ষ ব্যবহারের যে নিয়ম, আচার ও অনুষ্ঠানের উল্লেখ আছে তা এখন বলা হচ্ছে। আপনারা বিভিন্ন মুখী রুদ্রাক্ষ সম্পর্কে পড়ে জ্ঞাত হতে পারবেন বলে আশা করি তৎসংগে উপযুক্ততা হিসেবে নিজের মন মত ধারণ / ব্যাবহার করতে পারবেন । ব্যাবহার বিধি বিধান লিপিবদ্ধ করে দিলাম ।

শুভম্

হাসান কবির। ০১৭১৩০৩৫২৩৬।