মেষরাশি রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
মেষরাশি রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠন : রক্তবর্ণ, বৃহদ্বপু, ব্যায়ামপুষ্ট দেহ, দীর্ঘ মুখ, গ্রীবা ও নাসিকা, পুরু ওষ্ঠদ্বয়, কৃষ্ণবর্ণ কেশ, রক্তবর্ণ চক্ষু ও সমাঙ্গদেহ।

স্বরূপ : চর, অগ্নি, ওজরাশি, উগ্রপ্রকৃতি, পিত্তপ্রধান, ক্ষত্রিয়জাতি, রজোগুণী, পৃষ্ঠোদয়, হ্রস্ব, পূর্বদিক, অধিপতি মঙ্গল ও কালপুরুষের মস্তক। অশ্বিনীর ১৩০২০/, ভরণীর ১৩০২০/, এবং কৃত্তিকার ৩০২০মিনিট নিয়ে মেষরাশি গঠিত। মেষরাশি মঙ্গলের ক্ষেত্র এবং মূলত্রিকোণ (আনন্দময় স্থান), আত্মার কারক, রবির তুঙ্গ বা উচ্চস্থান ও তমোগুণের কারক শনির নীচস্থ্য। সুতরাং আত্মার দিক হতে যা কিছু শুভ তার বীজ এই রাশিতে পূর্ণমাত্রায় থাকবে। পুনরায় তমোগুণের (আলস্য, জড়তা, দুঃখ) কারক শনির নীচস্থান থাকায় তমোগুণ সৃষ্টির হেতু বা উৎপত্তি এই রাশির প্রকৃতিতে রয়েছে। এই সকল গ্রহশক্তির গুণদোষের মিলিত প্রভাব হতেই মেষরাশির জাতকের সৃষ্টি

মেষরাশির বৈশিষ্ট্য : মেষরাশি ও তার অষ্টমস্থ বৃশ্চিকরাশি মঙ্গল গ্রহের স্বক্ষেত্র। কর্কট তার নীচক্ষেত্র এবং মকর উচ্চক্ষেত্র। মঙ্গল যোদ্ধা গ্রহ। জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয় মঙ্গল। সুতরাং জন্মকালে মঙ্গলের অবস্থান শুভ হলে (অর্থাৎ স্বক্ষেত্র তৃতীয়ে, ষষ্ঠে, দশম কিংবা একাদশে) জাতক জাতিকার জীবনে সাফল্য লাভের ও নিজের প্রধান্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকে। মনে রাখতে হবে, মেষের জাতক-জাতিকার মধ্যে ব্যক্তিপ্রধান্য, তেজস্বী মনোভাব প্রবল থাকে। মেষের জাতকের মধ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞান (বিশেষ করে অন্ত্র চিকিৎসা) ইঞ্জিনিয়ারিং, পশুবিদ্যা ও যান্ত্রিকবিদ্যার প্রতি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকতে পারে। আবার তর্কশাস্ত্র ও পরিচালনার ক্ষমতাও দেয় এই মঙ্গল। অশ্বিনী নক্ষত্রের জাতক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভাল ফল করতে পারে। ভরনীর জাতকের মধ্যে রাসায়নিক বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যান্ত্রিক কাজ ও সৃষ্টধর্মী কাজে (এমন কি লেখক ও পরিচালক হওয়ার মত) স্বাভাবিক কুশলতাও থাকতে পারে। ভরণীর অধিপতি গ্রহ শুক্র। কৃত্তিকার অধিপতি রবি। কৃত্তিকার জাতকের মধ্যে পরিচালনা ও শাসন কর্তৃত্বের স্বাভাবিক গুণ থাকতে পারে। মেষরাশির জাতকের জন্মকালে মঙ্গল, রবি, বৃহসপতি ও বুধ অনুকূল থাকলে জীবন সংগ্রামে সাফল্য আনতে বিশেষ সহায়তা করে। অবশ্য তৎকালীন গ্রহের দশান্তর্দশা প্রত্যেক জাতকের জীবনে অনেকখানি প্রভাব বিস্তার করে। মেষের জাতকের মধ্যে প্রেম ও ভালবাসার প্রাধান্য থাকার সম্ভাবনা। অথচ এই দিক থেকেই জীবনে আঘাতও আসতে পারে। চররাশি মেষ, তার ভাগ্যপতি বৃহসপতি, কর্ম ও আয়ের অধিপতি শনি। সুতরাং উপরিউক্ত গ্রহগুলো অনুকুল থাকলে যতই বিপদাপদ কিংবা প্রতিকুল অবস্থা আসুক না কেন, মেষের জাতক মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।

মেষরাশির জাতক হবে অত্যন্ত স্বাধীনতাপ্রিয়। মেষরাশি অগ্নিরাশি, চররাশি ও পুরুষ রাশি। মেষরাশির আয়তন রাশিচক্রের শূন্য ০০ ডিগ্রী হতে ৩০ ডিগ্রী পর্যন্ত। জাতক জীবনীশক্তির প্রাচুর্যে নিজেকে অসীম শক্তিশালী বলে মনে করে। সত্য কথা বলতে জাতক কোন সময় দ্বিধাগ্রস্ত হবে না। সব কাজে নেতৃত্ব করা এবং নিজের বুদ্ধির মাপকাঠি দিয়ে সব জিনিস বিচার করার দিকে জাতক আগ্রহী হবে। জাতকের মধ্যে একটু আত্মসমমান জ্ঞানের প্রবণতা থাকে। সবাইকে আপন করে নিয়ে চলতে চাবে। একটা আদর্শকে আঁকড়ে ধরেই তার রূপায়ণে সচেষ্ট হবে। জাতকের মাথায় নানা রকমের ফন্দী ও পরিকল্পনা প্রকাশ পাবে। পরিশ্রম করতে জাতক নারাজ নয়। জাতকের চিন্তা ও ধারনাশক্তি অত্যন্ত প্রখর হবে। জাতকের ক্রোধ অত্যন্ত প্রবল হবে। যে কোনো ব্যাপারেই হোক না কেন জাতক যদি কোন সিদ্ধান্তে আসে তা থেকে সে সহজে বিচ্যুত হবে না। নিজের অভীষ্ট সিদ্ধির পথে ধীরস্থির ভাবে এগিয়ে যাবে। জাতক অবিচল নিষ্ঠায় প্রিয়পাত্রের জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে কুণ্ঠিত হবে না। উচ্চাকাংক্ষা অত্যন্ত প্রবল। ক্ষমতালিপ্সা হবে প্রবল। দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ, সব জিনিসের স্বাদ গ্রহণেও পটু হবে।

ভাগ্য : জাতকের ভাগ্য পরিবর্তনশীল হয়ে থাকে। সাধারণতঃ ২৯ বৎসরের পূর্বে জাতকের সত্যিকারের উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। নিজের কর্মক্ষমতার গুণে জাতক মধ্য বয়সে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। চাকুরী অপেক্ষা ব্যবসাতেই জাতক বিশেষভাবে উন্নতি করতে সমর্থ হবে। শেষ বয়সের দিকেই জাতকরে অর্থভাগ্য বিশেষ ভাল হয়। নানা বাধাবিপত্তির মধ্যেই জাতকের ভাগ্য পরিপূর্ণতা লাভ করে। শস্য, বস্ত্র, ঔষধপত্র, লৌহজাতীয় দ্রব্য এবং ভূমি সংক্রান্ত ব্যাপারে জাতকের অর্থাগম অব্যাহত থাকবে। মেষের জাতক যদি কোন কাজ করতে যাওয়ার আগে সেদিনকার মঙ্গলের অবস্থান দেখে অগ্রসর হয়, সাফল্যলাভ সুনিশ্চিত হবে।

কর্মস্থান : চিকিৎসাশাস্ত্রে জাতক বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করতে সমর্থ হবে, (বিশেষ করে শল্য চিকিৎসায়)। তাছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, পুলিস, ব্যাংক, জীবনবীমা এবং পূর্ত বিভাগের উচ্চতম পদে জাতকের কৃতিত্ব প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ সকলপ্রকার বড় কাজে জাতকের সাফল্য আসবে। ছোট কাজ জাতক একেবারেই পছন্দ করবে না। ২৭ বর্ষ থেকে কর্মোন্নতি শুরু হয়ে ২৯ বর্ষ মধ্যেই পরিণতি লাভ করে। কনট্রাক্টারী ব্যবসায়েও জাতক প্রভূত অর্থলাভ করতে সমর্থ হবে। বৃহসপতি ও শুক্র যদি জাতকের শুভভাবাপন্ন হয়, তাহলে উন্নতি অব্যাহত গতিতে অগ্রসর হবে।

বিবাহ : মেষরাশির জাতকের সবকিছু উন্নতি অবনতি নির্ভর করবে সুখী দাম্পত্য জীবনের উপর। সপ্তমপতি শুক্র যদি শুভভাবাপন্ন হয়, তাহলে জাতকের দাম্পত্যজীবন বিশেষ সুখের হবে। জাতকের কামনা-বাসনা অত্যন্ত তীব্র হবে। সেইজন্য স্ত্রী বা প্রেমিকার কাছ থেকে জাতক অনেক কিছু আশা করে। কিন্তু আশানুরূপ প্রাপ্তি না ঘটায় জাতকের মন বিষন্নতায় ভরে উঠে। ফলে দাম্পত্যজীবনে অশান্তির সৃষ্টি হয। স্ত্রী সুন্দরী ও অত্যন্ত আরামপ্রিয় এবং বিলাসী হয। আত্মীয় পরিজন থেকে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে চাবে। তাছাড়া স্ত্রীর মধ্যে কর্তৃত্বপ্রিয়তার ঝোঁকও প্রবল হয়। সন্তানের ব্যাপারে জাতক মোটামুটি সুখী হবে।

বন্ধুভাগ্য : বড় বড় ব্যবসায়ী, অধ্যাপক, চিকিৎসক ও যন্ত্রবিদকে বন্ধু হিসাবে পায়। জাতকের বন্ধুভাগ্য ভালই বলা যায়। ঘুম জাতকের একান্ত প্রয়োজন। কেন না জাতকের মস্তিষক প্রায়ই উত্তেজিত অবস্থায় থাকে। উত্তেজক দ্রব্য একেবারেই বর্জন করা প্রয়োজন। অধিক রাত্রি জাগরণ জাতকের পক্ষে খুব ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। ৩০ থেকে ৪৫ বর্ষ মধ্যে পেটে অস্ত্রোপাচারের সম্ভাবনা প্রবল। প্রোটিন জাতীয় খাদ্য নষ্ট স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ২০ থেকে ২৫ বর্ষ মধ্যে মাথায় বা ঘাড়ে লৌহদণ্ডের আঘাত বা রক্তপাত যোগ।

যোগ্যতা : মেষের জাতকের যোগ্যতা নানাভাবে প্রকাশ পায়। যে কোন সমস্যাসঙ্কুল কাজও মেষের জাতক অবলীলাক্রমে সুচারুভাবে সমাধা করতে পারে। চিন্তার জগতে মেষের জাতক বাস্তব ও কল্পনার মধ্যে একটা দৃঢ় সেতুবন্ধের চেষ্টা করে। মেষের জাতকের মধ্যে দৈব অনুপ্রেরণার বিকাশ ঘটে। মেষের জাতকের ধারণা, পৃথিবীর কেহ তার প্রতিভার মূল্যায়ন করতে চায় না। সব রকম পরিচালনার কাজে জাতক বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে সমর্থ হবে।

রোগ ও ব্যাধি : মস্তিষকপীড়া, পিত্তপীড়া, হাম, রক্তকুষ্ঠ, শ্লেষ্মা, গণ্ডরোগ, প্রদাহপীড়া, রক্তপীড়া, হিমোফিলিয়া ইত্যাদি।

খাদ্য : ডিম, মাংস প্রভৃতি উত্তেজক খাদ্য বর্জনীয়।

জাতকের রত্ন : জন্ম ছকে গ্রহাবস্থানের ভিত্তিতে।

শুভ বর্ণ : গৈরিক, সোনালী, গাঢ়লাল, মুগা রং এবং বাদামী।

স্মরণীয় বর্ষ : ৭, ১৯, ২২, ২৯, ৩৫, ৪৫, ৫২ এবং ৬৪।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন।

ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।