মীন রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
মীন রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠনঃ মধ্যমাকৃতি,রূপবান, গৌরবর্ণ, শোভনচক্ষুদ্বয়।
 
স্বরূপঃ দ্দ্বি-স্বভাব, জলরাশি, শ্লেষ্মাধাতু, অধিপতি বৃহস্পতি,কালপুরুষের পদদ্বয়, উভয়োদয়, উত্তরদেশ।

পূর্বভাদ্রপদের ৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট, উত্তরভাদ্রপদের ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট এবং রেবতীর ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট নিয়ে মীনরাশি গঠিত। অধিপতি গ্রহ বৃহস্পতি।

মীন রাশির বৈশিষ্ট্যঃ রাশিচক্রে মীনের প্রতীক দুটি মৎস। রাশি বলয়ের শেষ রাশি মীন এর অর্থ অনুধাবন করলে বুঝতে পারবেন,জীবনের শেষ লগ্নে মানুষ কি চায়?অতীত ও ভবিষ্যতের হিসাব মিলিয়ে উপলব্ধির অতল সমুদ্রের গভীর রহস্যের সমাধান তারা চায়। এই রাশির অধিপতি বৃহস্পতি, আবার রাশিচক্রের নবম রাশি ধনুর অধিপতিও বৃহস্পতি। এখানে তীরের লক্ষ্য জীবনের লক্ষ্যভেদের ইঙ্গিত। অর্থাৎ ভোগাসক্তির পাশবিক দিককে সংযত করে তারা পরিণতির দিকে যেতে চায়। মীনই তার শেষ পরিণতি। জীবনে সাফল্যের ক্ষেত্রে বৃহস্পতির প্রভাব অনস্বীকার্য। মীনের পক্ষে চন্দ্র, রবি ও বৃহস্পতির আনুকূল্য বা গুরুত্ব সর্বাপেক্ষা অধিক।

কর্মযোগী শুক্রের তুঙ্গস্থান বালোচিত বুধের নীচস্থান,রাশিটি দ্বি-স্বভাব জল, বিশুদ্ধ জ্ঞানের ক্ষেত্রে কামনাকারক শুক্রের তুঙ্গ শক্তির বিকাশ হয়। কিন্তু বালোচিত জ্ঞান স্নান হয়। রাশির প্রথম ১৫ ডিগ্রীর স্থির জল,শেষের ১৫ ডিগ্রী চর জল।

জাতক জীবনকে দেখবে বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে। সেকানে জাতক সসীম ও অসীমের মিলনে দিগন্তের সন্ধান করবে। প্রেম ও ভক্তিমূলক ধর্মের দিকেই বিশেষ আকৃষ্ট হবে। জাতকরে কেবলই মনে হয় সে যেন শহীদ। সবাই অন্যায় ভাবে তার প্রতি অবিচার করছে,মানুষের সান্নিধ্য ভালবাসলেও নিঃসঙ্গ থাকতেও জাতক ভালবাসবে বেশী। জীবনে যৌবনকে জাতক অক্ষয় রাখার চেষ্টা করে। স্বাধীনতার স্পৃহা প্রবল। পশুপক্ষীর উপর দয়া প্রবল। পরমদুঃখকাতর, উদার এবং দয়ালু হয়ে থাকে। চাঞ্চল্য ও বিলাসিতাপ্রিয়, কারো কাছে মাথা নত করা জাতকের পক্ষে অসম্ভব,বিবেক-বুদ্ধি সুতীক্ষ্ণ। জাতকের মধ্যে ভাবের খেলা  খুব বেশী। আনন্দের নেশাও প্রবল হয়। অন্যের সমালোচনা জাতক একেবারেই সহ্য করতে পারে না। আধ্যাত্মিক দিক জাতকের খুবই উন্নত হয়। প্রয়োজনবোধে জাতক সব সুখ সমৃদ্ধিকে হেলায় ত্যাগ করতে পারে।

ভাগ্যঃ মীনের জাতককে ভাগ্যোন্নতির ব্যাপারে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জাতক বিশেষ প্রতিষ্ঠা অর্জন করে। ২৩ বর্ষ থেকে ৩৩ বর্ষ সময়টি জাতকের পক্ষে ভাগ্যোন্নতির প্রকৃষ্ট সময়। সাহিত্য রচনা, ব্যাঙ্ক, প্রকাশনা এবং ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা প্রভৃতির মাধ্যমে জাতক বিশেষ উন্নতি করে থাকে। ৩৭ বর্ষ থেকে ৪৭ বর্ষের মধ্যে জাতকের প্রভূত অর্থ ও সম্পত্তিলাভ হয়ে থাকে। শরীরের দিকে জাতকের সতর্ক দৃষ্টি থাকে। কাজেই বার্ধক্যের অর্থকষ্ট জাতক তেমন পায় না। মাঝে মাঝে বেহিসেবী খরচ করবার জন্য হঠাৎহঠাৎ অর্থকষ্ট হয়।

কর্মজীবনঃ বেশী বয়সেই জাতকের ব্যবসাবাণিজ্যে অর্থলাভ হয়ে থাকে। মুক্তা, কয়লা, রাসায়নিক দ্রব্য, তৈল, খাদ্যশস্য এবং পোলট্রির ব্যবসায়ে প্রভূত অর্থলাভ ঘটে। কর্মজীবনে প্রথমাংশে নানা বাধাবিপত্তির মধ্যে অগ্রসর হলেও মধ্য জীবনযাত্রা বিশেষ উল্লেখযোগ্য হয়। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে জাতক প্রথম থেকেই দায়িত্বশীল পদ পেয়ে থাকে। নিয়োগকারীর স্বার্থের দিকে গভীর দৃষ্টি থাকায় জাতকের সুনাম ও অর্থোন্নতি অনায়াসসাধ্য হয়।

প্রেম, বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনঃ বিবাহিত জীবন জাতকের বিশেষ সুখকর হয় না। অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়সেবাজনিত কারণে জাতকের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। তবে গভীর প্রেম ও প্রণয়িনীর একনিষ্ঠতা এবং অকৃত্রিম ভালবাসা জাতকের বিবাহিত জীবনের অপূর্ণতাকে অনেকখানি পূরন করে দেয়। জাতকের স্ত্রী অনেক সদগুণের অধিকারিনী হয়ে থাকে। দাম্পত্য জীবনযাত্রা শেষ বয়সে ভাল হয়। জাতকের দুই স্ত্রী হওয়ার যোগ, সন্তানেরা বিশেষ কৃতী হয়। অবৈধ প্রেমের দিকে জাতকের মন বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট হয়। ২৪ বর্ষ থেকে ২৯ বর্ষের মধ্যে সাধারণতঃ বিবাহ হয়ে যায়। সন্তানেরা বেশ প্রতিভাশালী হয়।

বন্ধুভাগ্যঃ বন্ধুভাগ্য অথ্যন্ত উত্তম। কোন বিদ্ধান বিদেশী বন্ধুর দ্বারাও জাতক বিশেষ উপকৃত হবে। বিদেশী বন্ধুর সংখ্যা বেশি হয়। মহিলা বান্ধবীর দ্বারা জাতক বিশেষ উপকৃত হবে। কোন সম্ভ্রান্ত মহিলা জাতকের উন্নতির সহায়ক হয়।

স্বাস্থ্যঃ মীনের জাতকের রোগব্যাধি খুব কম হয়। কিন্তু যখন হয় তা খুব ভীষণাকার ধারণ করে। আন্ত্রিক পীড়া, হাইড্রোসিল এবং পাকস্থলীর বৈকল্যে জাতক বিশেষ কষ্ট পাবে। ফুসফুস-সংক্রান্ত রোগ ও প্লুরিসি সম্বন্ধে জাতকরে সতর্ক থাকা উচিত। যৌনব্যাধি কোন অঙ্গের অসাড়তা সম্বন্ধে জাতক বিশেষ কষ্ট পায়, বিশেষ করে শেষ বয়সে।

যোগ্যতাঃ এমন কোন কাজ নেই যাতে জাতকের যোগ্যতা প্রকাশ পায় না। কাব্যচর্চা, সাহিত্যসৃষ্টি, অধ্যাপনা এবং বড় কোম্পানীর ম্যানেজার, চিকিৎসাশাস্ত্রের চর্চায় জাতকের যোগ্যতা বিশেষভাবে প্রকাশ পায়। সঙ্গীতেও জাতক কৃতিত্ব দেখাতে পারে।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

শুভবর্ণঃ সোনালী, সাদা, মুগারং, গৈরিক এবং হালকা নীল। 

স্মরণীয় বর্ষঃ ১০,১৯,২৮,৩৩,৩৭,৩৯,৪৪,৪৯,৫০,৫৪ ও ৫৯।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন।

ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।