মিথুন রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
মিথুন রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠনঃ নাতিদীর্ঘ, নাতিহৃস্ব, একহারা পুষ্টকায় দেহ, দীর্ঘ ও উচ্চ নাসিকা, উজ্জ্বল চক্ষুদ্বয়, মাংসল পদদ্বয়, বায়ুপ্রকৃতি ও হরিদ্রাবর্ণ।

স্স্বরূপঃ বুধের ক্ষেত্র, দ্বি-স্বভাব, বায়ুরাশি, পশ্চিমদিক ও শীর্ষোদয় কালপুরুষের বাহুদ্বয়। মৃগশিরার ৬ ডিগ্রী ৪০ মিনিট, আদ্রার ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট এবং পুনর্বসুর ১০ ডিগ্রী নিয়ে মিথুন রাশি গঠিত।

মিথুন রাশির বৈশিষ্ট্যঃ মিথুন রাশির ছবি- নারী ও পুরুষের যৌনমিলনের ছবি। অর্থাৎ সৃষ্টির জন্যই এদের প্রচেষ্টা। বড় রহস্যপূর্ণ এই রাশি। অথচ দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিথুন রাশির নারী কিংবা পুরুষের সন্তানচিন্তা, সন্তান কষ্ট অথবা সন্তানহীনতা তাদের জীবনে দুঃখের ছায়া ফেলে। এ রাশির মধ্যে যেমন পুরুষের দৃঢ়তা, কর্মশক্তি ও উৎপাদনশীল শক্তি রয়েছে, তেমনি রয়েছে নারীসুলভ নম্রতা, ভালবাসা এবঙ স্নেহমমতার রহস্যময় দুর্বলতা। বোধনশক্তির কারক বুধ এই রাশির অধিপতি। বুধের মধ্যে রয়েছে বালক-বালিকা-সুলভ স্বাভাবিক ঔৎসুক্য ও প্রসন্নতা। তারা যেমন একটু স্নেহ-মমতা পেলেই খুশী হয়, আনন্দ পায়, মিথুনের জাতক-জাতিকার মধ্যেও রয়েছে সেরূপ মনোভাব।

বোধনশক্তির কারক বুধ-মিথুন রাশির জাতক-জাতিকার মধ্যেই এই বোধনশক্তি প্রবল থাকতে পারে। সৃষ্টিধর্মী কাজ, শিল্পীর কাজ, সাহিত্যের কাজ, শিল্প ও সঙ্গীত-নৃত্যাদি কিংবা অভিনয়ে এদের যোগ্যতা থাকে। বিশেষ করে সাহিত্য-শিল্পে তারা কোন না কোনভাবে উন্নতি বা দক্ষতা দেখান। অবশ্য বুধ আর শুক্রের অবস্থান ও জন্মকালীন ঐ দুটি গ্রহের শুভাশুভ শক্তির উপর তা বিশেষ নির্ভর করে। মৃগশিরা, আর্দ্রা ও পুনবর্সু এই তিনটি নক্ষত্র পড়ে এই রাশিতে। আর্দ্রার অধিপতি রাহু। সুতরাং অনুকূল রাহু এই নক্ষত্রের জাতক জাতিকাকে বিশেষ সহায়তা করতে পারে। মৃগশিরা নক্ষত্রের অধিপতি মঙ্গল। মৃগশিরা দেয় সৃষ্টিধর্মী কাজের সাফল্য ও অন্যদের পরিচালনা করার শক্তি। পুনর্বসু নক্ষত্র দেয় মহান সৃষ্টিধর্মী প্রতিভা। বৃহস্পতি এই নক্ষত্রের অধিপতি। সুতরাং বৃহস্পতির অবস্থঅনও চিন্তা করতে হয়। বিশেষ করে রবি, শুক্র ও বুধের (জন্মকালীন অবস্থান ও শক্তির) অবস্থা ও অন্যান্য গ্রহের সঙ্গে তৎকালীন সম্পর্কের উপর জীবনের অনেকখানি নির্ভর করে।

দশান্তর্দশা সম্পর্কেও এ কথা খাটে। মিথুনের জাতক সাংবাদিক ও পুস্তক ব্যবসায়ের কাজে শুভ ফল পেতে পারেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বাইরে সরলতা ও ভেতরে কপটতাও (শনি ও শুক্রের অবস্থান) তাদের মধ্যে দেখা যায়। রবি শুভ থাকলে শাসন বিভাগের কাজে তাঁরা বিশেষ দক্ষতা দেখাতে পারেন। রাষ্ট্রদূত অথবা ঐ পদে শুক্র ও রবি শুভ থাকলে বিশেষ সুবিধা  হয়।

জাতকের মধ্যে উদারতা, পরদুঃখকাতরতা এবং দৈবানুভূতি প্রবল হয়। অত্যন্ত প্রশংসাপ্রিয়তার দিকে ঝোঁক। যে কোন অবস্থায় যে কোন লোকের সঙ্গে বেশ ভালভাবে মিশতে পারে এবং তাদের উপর নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারেও সমর্থ হয়। একই সঙ্গে দুটো কাজে লেগে থাকা মিথুনের আর একটি স্বভাব। অপরের প্রশংসাবাণী জাতককে বালকের মত উৎফুল্ল করে তোলে। একটা কাজ শেষ না করে আরেকটি কাজে জড়িয়ে পড়ে। নিজের কার্যসিদ্ধি পর্যন্ত লোককে তোয়অজ করবে। যেই কাজ সিদ্ধ হয় তখুনি তাকে মন হতে মুছে ফেলে দেয়।

জাতক নির্ভীক, স্পষ্টবাদী, তবে জাতকের মধ্যে মিথ্যাচারণের দিকে একটি ঝোঁক দেখা যায়। জাতক নিজে যা নয় তাই বলে প্রচার করতে দ্বিধা বোধ করে না। মিথুন রাশির জাতকের মধ্যে মানসিক দ্বন্ধ অত্যন্ত বেশী হয়। কোন কিছুতেই মনকে স্থির করতে পারে না। আত্ম বিশ্বাস থাকে প্রচন্ড। কিন্তু একটুতেই জাতক মুষড়ে পড়ে বেশী,স্নায়ুমন্ডল দৃঢ় হয়। যুক্তিতর্ক দিয়ে সব জিনিসের বিচার করতে চায়। অধ্যবসায় খুব প্রবল। যে কাজে একবার ব্রতী হবে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা হতে বিচ্যুত হবে না। সামাজিক ব্যবহার মধুর হয়। সাহিত্য, বিজ্ঞান, জ্যোতিষ, চিকিৎসাশাস্ত্রের দিকে জাতকের ঝোঁক থাকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ।

ভাগ্যঃ চন্দ্র জাতকের ধনপতি। মিথুনের জাতকের অর্থভাগ্য অনেকটা চন্দ্রের মত ক্ষয়বৃদ্ধিশীল। এক সময় প্রচুর ধনাগম হয়। অন্য সময়ে প্রবল অর্থকষ্ট ঘটে। তবে মিথুনের জাতক অত্যন্ত আশাবাদী বলে অবস্থাকে যে কোন ভাবে সামলে নিতে পারে। মিথুনের জাতকের উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি হয়। গুপ্তশত্রু ও আত্মীয়স্বজনে উদারতার সুযোগ নিয়েও জাতককে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ২৪ বর্ষ থেকে মিথুনের জাতকের উন্নতি আরম্ভ হয়। ৩২ বর্ষ সময়টি জাতকের পক্ষে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। মধ্য জীবনযাত্রা বিশেষভাবে ভাল যায়,অর্থ, সম্মান, সুনামলাভে সমর্থ হয়। শেষ জীবনে প্রচুর অর্থ ও সম্পত্তির অধিকারী হয়ে থাকে।

কর্মজীবনঃ বৃহস্পতি মিথুনের শুভফলদাতা গ্রহ। জাতকের কর্মজীবন জীবনের প্রথম ভাগে বিশেষভাবে ভাল যায়। অনবরত চেষ্টার মাধ্যমে জাতকের সুনাম বৃদ্ধি পায় এবং কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশেষ অর্থাগম ঘটে। সাহিত্যচর্চা, পুস্তকরচনা, অধ্যপনা, সুগন্ধি দ্রব্য ও হোসিয়ারী দ্রব্যের ব্যবসায়ে বিশেষ কৃতিত্ব প্রকাশ পায়। ব্যবসা বাণিজ্যে নানাভাবে লাভবান হয়। কোন নতুন ফন্দি-ফিকির করে বা কোন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থ আয় হয়ে থাকে। বিভিন্ন কাজে অর্থাগম ঘটে। ৩১ বর্ষ সময়টি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ৩১-৩৩ মধ্যেই সাধারণতঃ কর্মবৃত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা ঘটিয়া থাকে।

বিবাহঃ দাম্পত্যজীবন বিশেষ ভাল হয় না। গুপ্তপ্রেমের দিকে জাতক খুব বেশী আকর্ষণ বোধ করে। তাছাড়া যৌবনের প্রারম্ভে কোন অবাঞ্ছনীয় ব্যাপারে (২৩-২৮) জাতক আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। জীবনের প্রায় শেষ পর্যন্ত জাতকের মধ্যে যৌনাকর্ষণ প্রবল থাকায় নারীঘটিত ব্যাপারে জাতক জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে। স্ত্রী সুন্দরী ও মনোহারিণী হয়ে থাকে। জাতক যাকে ভালবাসবে তাকে অকৃত্রিম ভাবেই পেতে চাইবে। মিথুনের জাতকের ভালবেসেই বিবাহ করা উচিত। বিবাহের পর জাতকের মধ্যে স্থিতপ্রজ্ঞতা ফিরে আসে। প্রেম জাতককে মহান করিয়া তোলে। সন্তান সংখ্যা ১-৩টির মত। কন্যাই হয় বেশি। ২৩ থেকে ২৮, ৩১ থেকে ৩৪ মধ্যে বিবাহ করা উচিত।

বন্ধুভাগ্যঃ বন্ধুভাগ্য জাতকের অপরিসীম। বন্ধুরা স্নেহপ্রীতিপ্রবণ ও উপকারী হয়ে থাকে। বস্তুত বন্ধুর দ্বারাই জাতক প্রতিষ্ঠা অর্জনে সমর্থ হয়। বিদ্বান ও ধনবান ব্যক্তির বন্ধুত্ব জাতক সহজেই পেয়ে থাকে। তবে বান্ধবী হতে জাতক সতর্ক না হলে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

স্বাস্থ্যঃ মিথুনের জাতকের স্বাস্থ্য বেশ সুদৃঢ় ও রমণীমোহন হয়। স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলার জন্য জাতককে যৌনব্যাধি, হৃদরোগ, রক্তচাপবৃদ্ধি প্রভৃতিতে বিশেষভাবে কষ্ট পেতে হবে। পেটের ব্যাথা এবং গ্যাস সৃষ্টি হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন না করলে পেটে অস্ত্রপচার অবশ্যম্ভাবী। সংযম ও মিতাচার অবলম্বন করলে মিথুনের জাতকের স্বাস্থ্য অনিন্দ্যনীয় হবে। ২৯ থেকে ৩৩ বর্ষ সময় স্বাস্থ্যের পক্ষে বিশেষ ক্ষতিকর। গুরুপাক আহারের প্রতি জাতকের ঝোঁক বেশী থাকে।

যোগ্যতাঃ এমন কোন কাজ নেই যা মিথুনের জাতকের অসাধ্য। একসঙ্গে অনেকগুলোয় জড়িয়ে পড়ার দরুণ প্রায় কাজই আধাখ্যাঁচড়া থেকে যায়। বুদ্ধিজীবি ও প্রতিভাশালীদের সঙ্গে জাতকের একটা নিবিড় যোগাযোগ থাকে। অতিরিক্ত আরামপ্রিয়তা অনেক সময় অসাফল্যকেই ডেকে আনবে। বিদ্যাচর্চা তথা জ্ঞানভান্ডারের ক্ষেত্র হতে মিথুনের জাতক নিজের যোগ্যতা প্রকাশ করে, অর্থভাগ্য ফেরাতে সক্ষম হন। বহুমুখী প্রতিভাকে রূপ দেবার জন্য যোগ্য উত্তরসাধকের প্রয়োজন। বুদ্ধিবৃত্তিকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে মিথুনের জাতক বিশেষ প্রতিষ্ঠালাভে সমর্থ হন। তবে শত্রু থেকে জাতকের সদাসর্বদা সতর্ক থাকা উচিত।

রোগ ও ব্যাধিঃ স্নায়ুপীড়া, স্মৃতিশক্তিপীড়া, বধিরতা, বাচালতা।

খাদ্যঃ দুগ্ধ ও ফল স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতজনক। মাংস, ডিম প্রভৃতি উত্তেজক খাদ্য ক্ষতিকর।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

শুভবর্ণঃ সোনালী, সাদা, রূপোলী, কচি কলাপাতা রং ও নীল।

স্মরণীয় বর্ষঃ ১০,১৫,১৭,১৮,২০,২৫,২৯,৩২, এবং ৪০ ও ৪৫ বর্ষ।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন। ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।