বৃষ রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
বৃষ রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠনঃ শুভ্রবর্ণ, দীর্ঘকায়, মাংসল ভরাট স্কন্ধ, প্রশস্ত ললাট, সুন্দর চক্ষুদ্বয় ও কৃষ্ণবর্ণ কেশ।

বৃষরাশির অধিপতি গ্রহ শুক্র। কৃত্তিকা নক্ষত্রের ১০ ডিগ্রী, রোহিণীর ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট এবং মৃগশিরা ৬ ডিগ্রী ৪০ মিনিট নিয়ে বৃষরাশি গঠিত।

বৃষরাশির বৈশিষ্ট্যঃ বৃষরাশির মধ্যে রয়েছে এক অনমনীয় দৃঢ়তা অথচ বৃষের জাতক জাতিকার মধ্যে স্নেহ, মমতা, ভালবাসা ও আনন্দ উপভোগের অভিলাষ কম নয়। সাধারনতঃ তারা ভদ্র, ধীর, স্থির ও শান্ত প্রকৃতির। যে কাজেই তারা নিযুক্ত, সে কাজে সাফল্যলাভের ইচ্ছা তাদের আছে। মাথা তুলে দাঁড়াবার বিশেষ চেষ্টা তাদের মধ্যে রয়েছে। জন্মাকালে শনি, বুধ ও শুক্রের অবস্থান ও শক্তির উপর তা অনেকখানি নির্ভর করে।

বুধ ও রবি শুভ হলে পড়াশুনা ও উচ্চপদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবার তাঁরা শক্তি পান। শনি এ রাশির ভাগ্য ও কর্ম উভয় স্থানেরই নিয়ামক। রাশির অধিপতি শুক্র । কৃত্তিকা দেয় সৃষ্টিধর্মী শক্তি ও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রবল ইচ্ছা। রোহিণীর অধিপতি চন্দ্র। রোহিণী নক্ষত্রে দেয় স্নেহ মমতা, অন্যকে আকর্ষণ করার মত মনোবল, গঠনমূলক বা সৃষ্টিধর্মী কাজের অনুপ্রেরণা। উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানবুদ্ধির দিকে রোহিনীর থাকে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।

মৃগশিরার অধিপতি মঙ্গল। এই নক্ষত্রে আছে অদম্য মনোভাবের মধ্যেও পরকে আপন করে নেবার প্রবল ইচ্ছা এবং বিরুদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে জয়ী হবার শক্তি। ছোটবেলায় যৌবনের গোড়ার দিক পর্যন্ত বৃষের জাতক জাতিকার অনুকূল পরিবেশ ও অভিভাবকদের সহায়তার উপর ভবিষ্যৎ অনেকখানি নির্ভর করে। এমনকি আনন্দ উপভোগের যে জন্মগত আবেগ তাদের মধ্যে রয়েছে তাও বিপথে চালিত হতে পারে। বৃষের জাতকের সাধারণতঃ নারীজাতির প্রতি বিশেষ  আকর্ষণ থাকার সম্ভাবনা। সুতরাং এখানে সাবধান না হলে অথবা সেই নারী তাদের সৎ পথের সহায়ক না হলে জাতক চরিত্রভ্রষ্ট হতে পারে। আঠারো বৎসর বয়সের মধ্যে শোকতাপ পাবারও রয়েছে আশঙ্কা। উক্ত সময়ের মধ্যে উদরঘটিত গোলযোগ ও বিষম জ্বরেরও আশঙ্কা থাকে।

মঙ্গল প্রতিকূল হলে অনেক ক্ষেত্রে রক্তপাত,হাত পা ভাঙ্গা ও কোনভাবে দেহে চোট পাবার আশঙ্কা থাকে। বৃষরাশি শুক্রের ক্ষেত্রে, চন্দ্রের উচ্চস্থান ও মূলত্রিকোণ। সুতরাং সৃষ্টিধর্মী কাজে এই জাতকেরা বিশেষ দক্ষতা দেখাতে পারেন। শুক্র পার্থিব সুখ ও জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চায় প্রতিষ্ঠিত হবার ক্ষমতা দেয়। আর চন্দ্র দেয় মানসিক শক্তির প্রেরণা। রাজনীতির ক্ষেত্রে রবি অনুকূল থাকলে তাঁরা বিশেষ যোগ্যতা দেখাতে পারেন। কিন্তু শুক্র মঙ্গলের যদি বিরুদ্ধ যোগ হয়, তাঁরা ভোগ ও ইন্দ্রিয় বৃত্তির দিকে ঝুকে পড়তে পারেন।

বৃষের জাতককে বাইরে থেকে অনেক সময় বোঝা যায় না। বৃষলগ্ন কিংবা বৃষরাশির জাতক নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের অনিষ্ট করতেও দ্বিধা বা সংকোচ করেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৃষের জাতক জাতিকার দাম্পত্যজীবনে কোন না কোনভাবে দুঃখের ছায়া পড়তে পারে। সংযম ও বিশিষ্ট সঙ্গই তাদেঁর জীবনকে উচ্চপথে নিয়ে যাবার বিশেষ সহায়ক। বৃষের জাতক খেলাধুলার ক্ষেত্রেও নিজের বৈশিষ্ট্য দেখাতে পারে। বুধ ও রবি প্রবল বা দুটি গ্রহ অনুকূল হলে উচ্চপদে ও শিক্ষার ক্ষেত্রে তারা নিজের কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হবে।

বৃষ রাশি বাস্তববাদী। রাশিচক্রের দ্বিতীয় ঘর। দ্বিতীয় ঘর ধনলাভের সূচক। বৃষরাশির জাতক কখনও ধনহীন হয়ে থাকে না। দৃঢ়চিত্ত ও অধ্যবসায়ী। জাতক ভোজনবিলাসী হয়। বন্ধু-বান্ধবকে গৃহে আমন্ত্রণ করে খাওয়াতে ভাল লাগে। জাতকের ক্রোধ অনেক সময় প্রচন্ডরূপ ধারণ করে। একবার রেগে গেলে সহজে ঠান্ডা হতে চায় না। জাতকের রুচি মার্জিত- একনিষ্ঠতা ও সততা বৃষের জাতকের মধ্যে সহজে প্রকাশ পায়। যৌন আকর্ষণ, ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির সুখ, সুন্দরের প্রতি আকর্ষণ, উদ্বাবণী শক্তি, প্রত্যৎপন্নমতিত্ব প্রভৃতি বৃষের জাতকের মধ্যে তীব্রভাবে দেখা দেয়।

পুরানো প্রথা, প্রাচীন রীতিনীতিকে জাতক সহজে ত্যাগ করতে চায় না। কষ্ট সহিষ্ণুতা জাতকের আরেকটি মহৎগুণ। সামাজিক ব্যবহার মাধুর্যপূর্ণ। যে কোন কাজের ভার এসে পড়লে তা সুস্পষ্টভাবে সমাধা না করা পর্যন্ত স্বস্তি পান না। বৃষ রাশির জাতিকা বা জাতক একাধিকবার জীবনযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হলেও দিশাহারা হন না। মাঝে মাঝে জাতকের মনে হবে জাতক যেন শহীদ। অন্যেরা অন্যায়ভাবে জাতকের উপর অত্যাচার ও শোষণ করে। অপরের দুঃখে জাতক সহজেই গলে যাবে। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। এই রাশি কখনও অন্তুর্মুখী। কখনও বর্হিমুখী হয়।

কর্মস্থানঃ কর্মক্ষেত্রে জাতক সহজেই উপরওয়ালার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়। কর্মজীবনে সামান্য পদ হতে ক্রমশঃ উচ্চপদে যেতে জাতককে বিশেষ বেগ পেতে হয় না। উচ্চাকাঙ্খা তীব্র হওয়ায় বৃষের প্রতিষ্ঠা অর্জণে সহজে সাফল্য অনায়াসে আসে। কর্মজীবন বিশেষ মহিমাময় হয়। ২৫ থেকে কর্মোন্নতি শুরু হয় এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত গতিতে চলে। বিভিন্ন কর্মে জাতকের মন আকৃষ্ট হবে। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাতক একটু আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে।

বিবাহিত জীবনঃ বৃষের বিবাহিত জীবন বিশেষ সুখকর হয় না। সপ্তম ও দ্বাদশপতি মঙ্গলের প্রভাব জাতকের উপর বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়। বৃষের যৌন স্পৃহা অত্যন্ত প্রবল হয়। কিন্তু অনেক স্থলে জাতকের যৌনাকাঙ্খা সম্পূর্ণ পূরণ হয় না।

চন্দ্রের সাতাশটি স্ত্রীর মধ্যে রোহিণী হল সবচেয়ে প্রিয়। এই রোহিণী ও তারামন্ডলকে ঘিরে অনেক রূপক কাহিনী প্রচলিত আছে। তবে বৃষের জাতকের স্ত্রী সুন্দরী, বিলাসী এবং প্রেমিকা ও গৃহকর্মনিপুণা হয়। অনেক সময় স্ত্রীর মনোরঞ্জন ও অন্যায় জেদ সামলাতে জাতককে হিমসিম খেতে হয়। স্ত্রী বেশ হিসাবী ও সাবধানী, বৃষের জাতকের একাধিক স্ত্রী বা প্রণয়িণী থাকা সম্ভব। সন্তানস্থান শুভ। যুগ্ম সংখ্যক সন্তান। স্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে জাতককে খুব বেশী বিব্রত হতে হয়। বৃষের জাতকের অল্প বয়সে বিবাহ শুভসূচক হয়। গোপন প্রণয় জাতকের সামাজিক সম্মান ক্ষুন্ন করে।

বন্ধুভাগ্যঃ বন্ধুভাগ্য উত্তম। সাহিত্যিক, কবি, ব্যবসায়ী এবং চিকিৎসক প্রভৃতিকে জাতক বন্ধু হিসাবে পায়। বন্ধুরা প্রায়ই প্রীতিপূর্ণ ও উপকারী হয়ে থাকে। বন্ধুভাগ্য জাতকের জীবনকে মহিমাময় করে তোলে। সীমিত বন্ধুর দ্বারাই জাতক বিশেষ উপকৃত হবে।

স্বাস্থ্যঃ সাধারণ স্বাস্থ্য ভালই হয়ে থাকে। কিন্তু জাতকের মধ্যে মূত্রাশয়ের পীড়া ডায়াবেটিস,জন্ডিস, পেটে ব্যাথা থেকে পীড়া, রক্তচাপ ও চক্ষুরোগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৫৬ বর্ষ বয়সে রোগাক্রান্ত হয়ে কষ্ট পায় বেশি। সে সময়ে পারিবারিক ঝঞ্ঝাটও প্রবলভাবে দেখা যায়। শর্করা জাতীয় খাদ্য জাতকের সর্বতোভাবে বর্জন করা উচিত। অপরিমিত ইন্দ্রিয়সেবাজনিত রোগেও উল্লেখযোগ্য কষ্ট পায়।

যোগ্যতাঃ স্মৃতিশক্তি প্রখর বলে বৃষের জাতক যে কোন বিষয়ে কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হবে। সাধারণ ব্যবসায়ে বিশেষ সাফল্য আসে না, কারণ জালজুয়াচুরিকে বৃষের জাতক অন্তরের সঙ্গে ঘৃণা করে। চাকুরীতেই বিশেষ সুনাম এবং প্রতিষ্ঠা পায়। নিজের চিন্তা ও যুক্তি নিয়ে থাকতে জাতক খুব ভালবাসে। পরোপকার বৃত্তি জাতকের মধ্যে বিশেষ ভাবে প্রকাশ পাবে। বীমা, ব্যাঙ্ক, হিসাবরক্ষক, শেয়ারের দালালী, সাহিত্যরচনা প্রভৃতিতে জাতকের যোগ্যতা প্রকাশ পাবে বেশী।

রোগ ও ব্যাধিঃ স্কন্ধের শিরাকে আশ্রয় করে স্নায়বিক কষ্ট, মুখে পীড়া, কন্ঠনালী পীড়া, শ্লেষ্মা পীড়া, ডিপথিরিয়া প্রভৃতি।

খাদ্যঃ চর্বি জাতীয় খাদ্য বর্জনীয়। মধ্যম উত্তেজক খাদ্য হিতকর।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

স্মরণীয় বর্ষঃ ৮,২১,২৫,২৯,৩২,৪৫,৫৭ এবং ৬৯।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন। ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।