বৃশ্চিক রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
বৃশ্চিক রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠনঃ মধ্যমাকৃতি থেকে সাধারণত বেটে ধরণের শরীর,গোলাকার মুখ,দীপ্ত চক্ষুদ্বয়,দীর্ঘকেশ ও পিঙ্গলবর্ণ।
 
স্স্বরূপঃ স্থির, জলরাশি, পিত্তপ্রধান, স্ত্রী-কারক, মঙ্গলের ক্ষেত্র, কালপুরুষের গুহ্য ও শিশ্ন,উত্তরদিক,দিবাবলী,পৃষ্ঠোদয়।

বৃশ্চিক রাশির বৈশিষ্ট্যঃ বৃশ্চিকরাশির প্রতীক একটি বৃশ্চিক (বিছা)। বৃশ্চিকের দংশনে ভীষণ জ্বালা। সাধারণভাবে তার অর্থ সংসারের জ্বালা যন্ত্রণা এই দংশন সহ্য করে যে এগোতে পারে,জীবনযুদ্ধে সেই জয়ী হতে পারে। বৃশ্চিক রাশিচক্রের অষ্টম রাশি। মেষ আর বৃশ্চিক দুটি রাশিরই অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। মঙ্গল যোদ্ধা,মঙ্গলই শক্তি যোগায়। কুমার গ্রহ মঙ্গল। মঙ্গল বাধাবিঘ্নের মধ্যে যুদ্ধ করে মাথা তুলে দাঁড়াবার জন্য প্রস্তুত। রাশিচক্রের প্রথম রাশি মেষ এবং অষ্টমরাশি বৃশ্চিক। অষ্টমরাশি মৃত্যুর কারণ হলেও এখানে তার বিশেষ তাৎপর্য আছে। সংসার জীবনে অভিজ্ঞতা ও লব্ধজ্ঞানের পরিণতি অষ্টমের পর নবম স্থানে। নবম ভাগ্যস্থান, তারপর দশম কর্মস্থান।

মেষের থেকে শুরু করে অষ্টমের যন্ত্রণা সহ্য করে নবমে গিয়ে পড়ে ভাগ্যের উপর;দশমে তার বিস্তৃতি। বৃশ্চিকরাশির জাতক-জাতিকার মধ্যে থাকে তীব্র অনুভূতি ও অসহিষ্ণু প্রকৃতি। যাদের মঙ্গলের উপর বৃহস্পতির প্রভাব রয়েছে তারাই সংযত হয়ে জীবনে আলোর সন্ধানে সফল হতে পারেন। বৃশ্চিক অসহিষ্ণু প্রকৃতি, সংযত না হলে জীবনে শান্তি ও উন্নতির পথে বাধা আসে। মঙ্গল ও বৃহস্পতি শুভ না হলে বৃশ্চিকের অসহিষ্ণু প্রকৃতি ভুল পথে চালিত হবে। তার জন্য জাতক অত্যন্ত স্বার্থান্ধ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশাখা, অনুরাধা আর জ্যেষ্ঠা এই তিনটি নক্ষত্র রয়েছে বৃশ্চিকে। বিশাখার মধ্যে রয়েছে ছড়িয়ে পড়ার ভাব। বিশাখার অধিপতি বৃহস্পতি। বৃহস্পতি শুভ থাকলে বিশাখার জাতক বিশেষ সফল হতে পারেন। তবে বাধা পেলে বিশাখার জাতক তীব্রভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে।

অনুরাধা নক্ষত্রের অধিপতি শনি। তার সৌম্য, শান্ত ভাবের মধ্যেও ভবিষ্যতের শুভাশুভ আভাস ধ্যানদৃষ্টিতে দেখার শক্তি রয়েছে। দৈবানুভূতি আর প্রেম ভালবাসার উদারতাও রয়েছে তার মধ্যে। অনুরাধার জাতক সাংসারিক জটিলতার মধ্যেও থাকতে পারে অন্তর্লোকের সন্ধানে। শনি প্রতিকূল হলে জাতক হয়ে ওঠে কঠিন। বৃশ্চিকের সপ্তমরাশি বৃষ শুক্রের রাশি। তার নবম রাশি চন্দ্রের এবং দশম রাশি রবির। সুতরাং উদ্ভাবনী প্রতিভা,মানসিক শক্তি,সৃষ্টিধর্মী গঠনমূলক কাজে তার স্বাভাবিক অনুরাগ থাকে। অন্যান্য গ্রহ অনুকূল থাকলে বৃশ্চিকের জাতকেরা বিশেষ উন্নতি করতে পারে। প্রেম ভালবাসার কারক শুক্র সপ্তম পতি হওয়ায় বৃশ্চিকের জাতক-জাতিকার মধ্যে প্রেম-ভালবাসারও বিশেষ অনুভূতি রয়েছে। মনের শক্তি দেয় চন্দ্র, আর কর্মশক্তির সঙ্গে প্রাধান্যের ও অন্যদের উপকার করার ও চালনা করার শক্তি দেয় রবি।

জাতক কাজপাগল,কর্তব্যে গাফিলতি জাতকের অসহ্য। ইচ্ছাশক্তি প্রবল। তবে এই রাশি বেশি ভাবপ্রবণ হয়ে থাকে। সব সময়ে উত্তেজনার মধ্যে জীবন কাটাতে চায়। পান থেকে চুন খসলেই লোককে দু-কথা শুনিয়ে দিতে জাতক পশ্চাৎপদ নয়। জাতক সহজে কাউকে ক্ষমা করতে পারে না। প্রতিশোধ নেবার ইচ্ছা দীর্ঘদিন মনের মধ্যে পুষে রাখে। নিজের প্রচারে জাতক সদাসর্বদা ব্যাপৃত থাকবে। লোকনিন্দার দিকে তীক্ষ্ণদৃষ্টি। স্বাধীনতাপ্রিয় হয় প্রবল। আত্মমর্যাদাজ্ঞান অত্যন্ত বেশি। প্রভুত্বপ্রিয়, উচ্চাকাঙ্খী, আধিভৌতিক ব্যাপারে আগ্রহী।

ভাগ্যঃ জাতক নিজের জীবনকে তীব্রভাগে বিশ্লেষণ করে থাকে। প্রথম জীবনে দারিদ্র্যের মধ্যে কাটালেও ২৪ বর্ষ বয়স থেকে জাতকের আর্থিক ভাগ্য উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পায়। চাকুরীতেই কোন আত্মীয় বা বন্ধু জাতকের উন্নতির পথ সুগম করে তোলে। মধ্য বয়সেই জাতক অর্থসম্পত্তির ব্যাপারে বিশেষ সাফল্যলাভ করে থাকে। আয়কর, বিক্রয়কর, সামাজিক বিভাগের কাজ, শস্য জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসায়ে জাতকের প্রভূত অর্থোপার্জন ঘটে থাকে। অন্যের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছাড়া বিশেষ উন্নতি করতে পারে না। শেষ জীবন বেশ স্বচ্ছলতার মধ্যে কাটে। অর্থসঞ্চয়ের দিকে জাতকের সতর্ক দৃষ্টি থাকে।
কর্মজীবনঃ জাতক জীবনকে বিশেষ বিশ্লেষণ করে চলে। অন্যের দোষ-ত্রুটি সহজে ধরতে পারে। যে কাজে একাবর ব্রতী হবে, ভুল হোক আর যাই হোক না কেন, সে কাজে সহজে সাফল্যলাভে সমর্থ হয়। কর্মক্ষেত্রে ওপরওয়ালাদের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়। টাকাকড়ি লেনদেনের কাজ, ইলেকট্রিক, চাষবাস এবং বিজ্ঞাপনের কোন শাখার কাজে জাতক বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে পারবে। চাকুরীতেই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠা পাবে।

প্রেম, বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনঃ চন্দ্র দুর্বল থাকায় জাতকের যৌনাকর্ষণ অত্যন্ত প্রবল হয়। স্ত্রীকে অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করতে দিতে জাতক নারাজ। স্ত্রী সুন্দরী ও আবদারপ্রিয় হয়। ২৫ থেকে ২৯ বর্ষের মধ্যেই সাধারণতঃ বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যায়। বিবাহিত জীবন প্রায়ই সুখের হয়। বিবাহিত জীবনে অশান্তি ঘটলে জাতকের জীবনযাত্রা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। সন্তানস্থান শুভ। কন্যাসন্তান হবে বেশি।

বন্ধুভাগ্যঃ জাতকের বন্ধুভাগ্য উত্তম। কোন মহিলার কাছ থেকে অর্থ সম্পত্তি প্রাপ্তিযোগ ঘটে থাকে ৩৯ থেকে ৪৯ বর্ষ মধ্যে। বন্ধুরা স্নেহশীল ও উদার। বান্ধবী থেকে জাতকের সতর্ক থাকা উচিত। তাছাড়া কোন সাহায্যপ্রাপ্তা আত্মীয়ার দ্বারাও জাতকের ক্ষতি হয়। বন্ধুপতি শনির প্রভাবে কৃষ্ণবর্ণের বন্ধুর দ্বারা অপূরণীয় ক্ষতি ঘটে থাকে।

স্বাস্থ্যঃ স্বাস্থ্য ভাল গেলেও জাতক প্রায়ই কোনও না কোন দুরারোগ্য ব্যাধিতে কষ্ট পায়। নাড়ী দৌর্বল্য, শ্লেষ্মাপীড়া, অর্শ, হার্নিয়া, ব্রঙ্কাইটিস এবং পাকস্থলীর বৈকল্যে কষ্ট পায় জাতক। অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ও চর্বিজাতীয় খাদ্য একেবারেই পরিত্যাগ করা উচিত।

যোগ্যতাঃ জাতক প্রায়ই ব্যবহারিক জগতের সব কাজেই কমবেশি পটুতা দেখাতে সমর্থ হয়। অধ্যাপক, কারিগরিবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র এবং ধর্মযাজকের বৃত্তিতে বিশেষ যোগ্যতা দেখাতে পারে। ২৮ থেকে ৪৮ বর্ষ সময়ে জাতকের পক্ষে বিশেষ স্মরণীয় হয়। মানসিক চঞ্চলতা বর্জন করলে এমন কোন কাজ নেই যাতে জাতক যোগ্যতা দেখাতে পারবে না। একাদশপতি বুধ জাতকের জীবনকে সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে তোলে।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

শুভবর্ণঃ গৈরিক লাল,রূপালী এবং আকাশী রং।

স্মরণীয় বর্ষঃ ৮,১৪,১৯,২৪,২৯,৩৪,৪০,৪৭,৫২,৫৭ এবং ৬১ বর্ষ।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন।  ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।