বিশ্ব পরিস্থিতি ১৪২০


                                                 ১৪২০ বঙ্গাব্দে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ।

অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল ২০১৩ থেকে ১৩ই এপ্রিল ২০১৪ যা যা ঘটবে তাহা নিম্নরূপ।

১৪২০ বাংলায় বহু বরেণ্য ব্যক্তির মৃত্যুযোগ পরিলক্ষিত।

সূক্ষ্ম ভাবে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান চিন্তা করলে ১৪২০  বঙ্গাব্দে উৎফুল্ল হওয়া যায় না।সমগ্র বাংলাদেশে ব্যাপক নাশকতামূলক কার্য্য, জলে স্থলে অন্তরীক্ষে বহু ভয়াবহ দূর্ঘটনা, ঘূর্নিঝড় জলোচ্ছাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবষ্টি, অকাল বৃষ্টি, ছোট বড় ভূকম্পন, বড় বড় অগ্নিকান্ড নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, মহামারী আকারে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব, কোন নতুন ব্যধির আত্ম প্রকাশ, প্রায় দূর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক বিরোধ তথা দাঙ্গা, সাধারণ স্বার্থসিদ্ধির নিমিত্ত খুন জখম, হৃদ, নদী, জলাশয় বিষাক্ত দ্রব্যের মিশ্রণ প্রভৃতির ফলে কঠিন রোগ ব্যাধি, ক্ষুদ্র বৃহৎ নতুন পুরাতন নির্ব্বিশেষে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথা ধর্ম্মস্থানে উগ্রপন্থীয় তথাকথিত পরধর্ম অসহিষ্ণু শিক্ষাদান ও অস্ত্র বিস্ফোরক দ্রব্যাদির মজুত এবং গোপনে যত্র-তত্র পাচার ও ব্যবহার এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি করবে।দেশ নায়ক/নায়িকাগণ দূর ভবিষ্যতের মঙ্গল চিন্তা না করলে এবং সেইরূপ জাতির প্রকৃত মঙ্গল সাধনে প্রবৃত্ত না হয়ে শুধুমাত্র ভোট আরাধনায় মত্ত থাকলে কিংবা দিক ভ্রান্তের মত কর্মে ব্যাপৃত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে জাতি ও দেশকে বহুমূল্য দিতে হবে ।

যতদিন যায় আল্লাহর সৃষ্ট পৃথিবীতে ততবেশী অঘটন ঘটতে থাকে। এ বৎসরও এর ব্যতিক্রম হবে না। বরঞ্চ বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে অঘটন অনেক বাড়বে। নানা প্রাকৃতিক দূযোর্গ, বিবিধ রোগ ব্যাধি, সন্ত্রাসবাদের আক্রমণ, যানবাহনাদি ঘটিত দূঘটনা, মানুষের অসতর্কতা তথা অসংযত আচরণ প্রভৃতি যেন বাংলাদেশকে গ্রাস করে ফেলতে চাইছে। এ বৎসর বাংলাদেশে বহু প্রাণহানী ঘটবে যাহা গত ২৭ বৎসরের তুলনায় বেশী হবে। বৎসরের শুরুতে অর্থাৎ ২৫ শে এপ্রিল ২০১৩ বৃহস্পতিবার চন্দ্র গ্রহণ, শনি ও রাহুর তুলা রাশিতে অবস্থান ও বুধ গ্রহের রেবতী নক্ষত্রে সঞ্চার হেতু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রাকৃতিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটবে। বাংলাদেশের জন্য ১৪২০ বাংলা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বৎসর হিসাবে চিহ্নিত হবে। রাজনৈতিক অঙ্গন ১৪১৯ বঙ্গাব্দ থেকেই উত্তপ্ত হয়ে আছে ১৪২০ বঙ্গাব্দে তাহা আরও অধিকতর উত্তপ্ত হবে। বিরোধী দল সমূহের নতুন নতুন কর্মসূচী জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিবে। রাহু শনি, মঙ্গল ও বুধ গ্রহের প্রভাবে বিদেশী ইন্দন, বিদেশী তৎপরতা এবং পরোক্ষ কূটচালে দেশের স্থিতিশীলতা ব্যাহত করবে। বিরোধী দলীয় কর্মকান্ড সরকার ও জনগনকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করবে। ১৭ই এপ্রিল  ২০১৩  পর হতে মহাজোট সরকারের জোটবদ্ধ দল সমূহের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, মতভেদ, স্বার্থপরতা দেখা দিবে। অমনকি মহাজোটের কিছু দলের কথাবার্তা চরম অসংযত রূপ ধারণ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াবে। ২৯ শে মে ২০১৩ বৃহস্পতি গ্রহ মিথুনে সঞ্চারের পর হতে সরকার বিরোধী জোটেও বিশ্বাস নির্ভরতায় মতভেদ এবং সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি হবে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় একে অপরকে দোষারূপ করায় এমন কিছু চরম সত্য প্রকাশ পাবে যা জেনে জাতি স্থম্ভিত হয়ে যাবে। ২৪শে মে ২০১৩ মঙ্গল গ্রহের বৃষ রাশিতে সঞ্চারের পর বাংলাদেরশর ভাগ্যাকাশে চরম দূযোগ লক্ষ্য করা যায়। যার মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠন সমূহের অপতৎপরতা একের পর এক বৃদ্ধি পাবে। গুপ্ত হত্যা, হত্যা, অগ্নি সংযোগ, রাহাজানি, বোমা হামলা, এমনকি আত্মঘাতি বোমা হামলা কোথাও কোথায়ও সম্মুখ যুদ্ধ হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার  প্রক্রিয়া   চলতে থাকবে, তারা দন্ডিত হবেন এবং   যথাযথ সাজা ভোগ করবেন। শুক্র গ্রহের প্রভাবে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় কায্যক্রমে জনমনে কিছুটা শান্তি-স্বস্তি ফিরে এলেও বহিঃশক্তির ইন্ধন এবং প্ররোচনায় পুনঃপুনঃ পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠবে। রাহুর ১৫ নং স্বাতী নক্ষত্রে সঞ্চার, রাহু শনির অশুভ প্রভাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নতুন নতুন ধারার সৃষ্টি হবে তন্মধ্যে আত্মঘাতি ধারা কোন ক্রমেই বাদ দেয়া যায় না। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন ভাবে প্রাণহানি ঘটবে। বুধ গ্রহের বারংবার বক্রী রূপ ধারণের ফলে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হবে। চন্দ্রের প্রভাবে দেশের মধ্যাঞ্চল, শুক্রের প্রভাবে দেশের দক্ষিন-পূবাঞ্চল, রাহুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। বৃহস্পতি গ্রহের পশ্চিমে অস্তমিততার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নিবাচনে প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন পন্থা উদ্ভাবন হবে। গ্রহণযোগ্য নিবাচনের সর্ব্বাত্ত্বক প্রচেষ্টা চলবে। বিদেশী দেশ সমূহের অনুরোধ, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, বুদ্ধিজীবি, প্রগতিশীল ও অসমান্প্রদায়িক জনগোষ্ঠীর সহায়তা বাংলাদেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে গ্রহণযোগ্য নিবাচন অনুষ্ঠানে সরকার সফল হবে।

১৪২০ বাংলায় (১৪-৪-২০১৩-১৩-৪-২০১৪) প্রাকৃতিক দূযোগ প্রচুর লোকক্ষয় হবে।ঘূর্ণিঝড় , জলোচ্ছাস এবং বজ্রপাতে অধিক প্রাণহানী ঘটবে। এই বৎসর স্থান বিশেষে প্রবল বৃষ্টি হয়ে ফসলের ক্ষতি করবে। পাশ্ববর্তী দেশের পানির চাপে ও বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। অক্টোবর মাসে শনি গ্রহের অস্তমিততার কারণে বর্হিবিশ্বে দেশের সুনাম হ্রাস পাবে। বিদেশী রাষ্ট্র নায়করা এবং দাতা দেশ সমূহের সাহায্য বিভিন্ন শর্তারোপের কারণে বিঘ্নিত হবে। বিনিয়োগ যেমন হ্রাস পাবে তদ্রুপ বৈদেশিক রিজার্ভও অনেক কমে যাবে। পোশাক শিল্পের অবস্থান বিশেষ অশুভ নয়। নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে পারবে তবে পুরনো বাজারে রপ্তানী হ্রাস পাবে। বিভিন্ন বড় বড় ইমারত, গার্মেন্টস শিল্প ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ্য হবে। ১৪২০ বাংলায় বহু বরেণ্য ব্যক্তির মৃত্যুযোগ পরিলক্ষিত। বহু বাধা বিঘ্ন অতিক্রান্তে কৃষি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। বর্তমান বর্ষে একাধিক বরেণ্য ব্যক্তির আগমন ঘটবে। এন.জি.ও কর্মকান্ড পূবের তুলনা বেশ খারাপ যাবে। দাতা দেশ সমূহ মাঝারি ও ছোট মাত্রার এন.জি.ও কে সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ করে দিবেন। আবার বহু এন.জি.ও দেশের ভাবমূত্তি বিদেশে গিয়ে স্বেচ্ছায় প্রণোদিত হয়ে নষ্ট করার বিফল প্রয়াস চালাবে। শিক্ষাক্ষেত্রে আগের তুলনায় শুভ তবে ছাত্র সংগঠন এর কর্মকান্ড স্থান বিশেষে অমানবিক ঘটনার সূচনা করবে।  ১৪২০ বঙ্গাব্দে পাট শিল্পের বিদেশে ব্যাপক প্রসারতা লাভ করবে। বর্তমান বর্ষে মানুষ সৃষ্ট দূযোগ প্রাণহানী বেশী ঘটবে বিধায় সবাইকে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

মহান সৃষ্টিকর্ত্তার সৃষ্ট দৃশ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদের আপনার দ্বারায় যেন কোন প্রকার ব্যত্যয় না ঘটে এই শুভ কামনায় বাংলাদেশ ভূ-খন্ডে জন্মগ্রহণকারীর পক্ষ থেকে বিশ্ব-মানব সভ্যতার প্রতি কল্যানময় প্রার্থনা জানাচ্ছি।

 

শান্তিলাভ করুন।

হাসান কবির

জ্যোতিষ, বাস্তুবিদ।

১৩ই মার্চ, ২০১৩।

০১৭১৩০৩৫২৩৬

গত বছরের (বিশ্ব পরিস্থিতি ১৪১৯)