ধনু রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
ধনু রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠনঃ পুষ্টকায়,দীর্ঘাকৃতি,দীর্ঘনাসিকা,প্রশস্ত ললাট।

স্বরূপঃ দ্বি-স্বভাব,অগ্নিরাশি,পুরুষকারক,পিত্তধাতু,অধিপতি বৃহস্পতি। কালপুরুষের ঊরুদ্বয়,পূর্বদিক,পৃষ্ঠোদয়।

মূলার ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট,পূর্বাষাঢ়ার ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট এবং উত্তরাষাঢ়ার ৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট নিয়ে ধনুরাশি গঠিত। অধিপতি গ্রহ বৃহস্পতি।

ধনুরাশির বৈশিষ্ট্যঃ ধনুরাশির অধিকর্তা যেমন বৃহস্পতি তিনি আবার রাশিচক্রের শেষ রাশি মীনেরও অধিপতি। ধনুরাশির প্রতীক এক অশ্বারোহী,হাতে তার তীরধনু, যেন কোন লক্ষ্যভেদ করতে উদ্যত। এর অর্থ পশুবৃত্তিকে বা মানসিক ভোগ লালসাকে দমন করে মানবিকতার লক্ষ্যে পৌছানো। রাশিচক্রে নবম এই ধনুরাশি। ভাগ্য নিয়ন্ত্রণে এর গুরুত্ব বেশী। মঙ্গল, রবি ও বৃহস্পতির শুভাশুভ বল সাপেক্ষে এই রাশির জাতক জাতিকার মধ্যে বিশেষ প্রতিভা থাকার কথা। ধনু লগ্নই হোক কিংবা ধনুরাশিই হোক,যে কোন ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাদের বিশেষ চেষ্টা থাকে। সুযোগও পান প্রচুর।

জন্মকালে বৃহস্পতি,মঙ্গল ও রবি অনুকূল না হলে উন্নতির পথে বাধা আসে। সংসার জীবনে তাদের কোন না কোন ভাবে অশান্তি বা দুঃখ পাবার আশঙ্কা। এমন কি টাকাকড়ির অভাব না থাকলেও, তাদের হৃদয়ে কোন না কোন ভাবে এক ধরণের অভাব বোধ থাকে। বিবাহিতদের পত্নী অথবা সন্তানের জন্য কোনভাবে দুঃখ পেতে হয়। অথচ তাদের মধ্যে স্নেহ মমতার আধিক্য থাকে। পরকে আপন করে নেওয়ার শক্তিও তাদের মধ্যে রয়েছে। চন্দ্র ও বুধ অনুকূল থাকলে সৃষ্টিধর্মী কাজে তারা সুনাম অর্জন করতে পারেন এবং মহৎ কোন কাজে তারা স্মরণীয় হয়েও থাকতে পারেন।

রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতির অবস্থা যত ভাল হবে, খ্যাতির গন্ডীও তত বিস্তৃত হবে। ধনুর জাতক আদর্শবাদী,পরিশ্রমী ও দৃঢ়চেতা হলেও স্নেহ ভালবাসার দুর্বলতাও তাদের মধ্যে থাকে। রবি ও বৃহস্পতি তাদের শুভভাবে থাকলে জীবনে বিশেষ উন্নতি তারা করতে পারেন। আবার বুধের ও শুক্রের প্রভাব বেশী হলে স্নেহ ভালবাসা ও পুরুষের পক্ষে নারীর প্রতি আসক্তি অনর্থ ঘটাতে পারে। সাহিত্য, শিল্প, আইনবিদ্যা ও অধ্যাপনার কাজে তারা বেশী উপযুক্ত। এর মধ্যে মূলা, পূর্বাষাঢ়া ও উত্তরাষাঢ়া এই তিনটি নক্ষত্র রয়েছে। মূলার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত বিষয়াসক্তি। পূর্বাষাঢ়ায় রয়েছে নিজেকে ছড়িয়ে দেবার ও জ্ঞান বিজ্ঞানে আসক্তির লক্ষণ এবং উত্তরাষাঢ়ায় রয়েছে নিজের প্রাধান্য বিস্তারের মনোভাব। এই রাশির জাতক/জাতিকার মধ্যে অজানাকে জানার বা উপলব্ধি করার আকাঙ্খা থাকে। সুতরাং উপযুক্ত স্থান, কাল ও জন্মকালের পরিবেশ অনুকূল হলে তারা নিজেকে বিকাশের সুযোগ পেতে পারেন।

জাতক খুটিনাটির দিকে বেশী লক্ষ্য দেয়। অন্যায় সহ্য করতে পারে না,কটু সত্যকথা বলার জন্য অযথা শত্রু সৃষ্টি হয়। অত্যন্ত আত্মাভিমানী ও সাহসী। যে কাজে ব্রতী হয় কাজটা কতখানি ভাল কতখানি মন্দ তা জাতকের অজানা থাকে না। সমাজ সেবায় বিশেষ সুনাম লাভ করে থাকে। গুরু, শিক্ষক ও উপদেষ্টার ভাব প্রবল। সব কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে চাইবে। নিজের মনোভাবকে তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা না করে ছাড়ে না। অন্যের কর্তৃত্বে জাতক এক মুহূর্তও টিকে থাকতে পারে না। উদারতা ও ক্ষমা জাতকের মধ্যে বিশেষভাবে প্রকাশ পায়। আধ্যাত্মিক জীবনের দিকে অনেক দূর অগ্রসর হতে সমর্থ হয়। প্রত্যেক কাজে ধাপে ধাপে একটু একটু করে অগ্রসর হতে চায়, উচ্চাভিলাষ প্রবল। রাজনীতির দিকে বেশী ঝোকে। জাতকের চিন্তার মধ্যে বাস্তববাদ সবচেয়ে প্রাধান্য পাবে। যে কাজে স্বাধীন কর্তৃত্ব নেই, সে কাজে টিকে থাকা জাতকের পক্ষে অসম্ভব। সঙ্গীতজ্ঞ না হলেও অত্যন্ত সঙ্গীতের রসপিপাসু হয়।

ভাগ্যঃ খামখেয়ালীপনার জন্য ভাগ্যোন্নতিতে বাধা ঘটলেও বুদ্ধিকৌশলে জাতক নিজের ভাগ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। নানা বিঘ্নের মধ্যেই জাতকের ভগ্যোন্নতি ঘটে থাকে। মধ্যবয়সে অর্থভাগ্যযোগ বিশেষভাবে ভাল হয়ে থাকে। ভাগ্য অনেকটা সাহায্য করে জাতককে। অসৎ উপায়ে অর্থোপার্জন জাতকের প্রকৃতি বিরুদ্ধ। রেল, বিমানদপ্তর অথবা ভূমিসংস্কার বিভাগীয় কাজে জাতকের বিশেষ কর্তৃত্ব দেখা যাবে। অপরিণামদর্শিতার জন্য অর্থোপার্জনে বাধা ঘটে। সুযোগ এসেই সরে যায়। বিদ্যাযোগ শুভ। শেষ বয়সে জাতকের অর্থভাগ্য বিশেষ উন্নত হয়। ভাগ্যোন্নতির ব্যাপারে অন্যের উপর কমবেশী নির্ভর করতে হয়।

কর্মজীবনঃ সাহিত্যচর্চা,মুদ্রণের কাজ,শিক্ষকতা,রাজনীতি এবং মনোহারী দ্রব্যের ব্যাপারে জাতক বিশেষ লাভবান হয়। কর্মজীবন বিশেষভাবে উন্নত হয়। ২৭ বর্ষ পর ব্যবসা বাণিজ্যে জাতক খ্যাতিলাভে সমর্থ হয়। কর্মজীবন বিশেষ মহিমাময় হয়ে উঠে। দূতাবাসের কাজেও জাতক পারদর্শিতা দেখাতে পারে

প্রেম, বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনঃ বিবাহিত জীবনে তেমন বিঘ্ন আসে না। স্ত্রী গৃহকর্মনিপুণা এবং সৌভাগ্যবতী হয়ে থাকে। ২৮ থেকে ৩২ বর্ষ মধ্যেই বিবাহযোগ। স্ত্রীর প্রতি তীব্র আকর্ষণ জাতকের একনিষ্ঠ প্রেমের পরিচয় প্রকাশ করে। মনের মত স্ত্রী পেলে জাতক অসাধ্য সাধনেও তৎপর হয়। ভালবাসার মধ্যে কোন কৃত্রিমতাকে জাতক সহ্য করতে পারে না। ধনুর জাতকের অল্পবয়সে বিবাহ অনুচিত। দ্বি-স্বভাব রাশির প্রকৃতির জন্য একাধিক প্রেমও জাতকের মধ্যে দেখা যায়। সন্তান স্থান শুভ। পুত্রসন্তান বেশী হয়। কোন কন্যা সন্তানের প্রতিভা জাতকের কাছে খুবই গর্বের বস্তু হবে। স্ত্রী সাধারণতঃ খুব কল্পনাপ্রবণ।

বন্ধুভাগ্যঃ বন্ধুভাগ্য খুব ভাল হয় না। জাতক বন্ধুর জন্য নানা ত্যাগ স্বীকারে কুন্ঠিত নন। কোন বিশিষ্ট বন্ধু বা বান্ধবীর দ্বারা জাতকের অপূরণীয় ক্ষতি ঘটে থাকে।

স্বাস্থ্যঃ স্ববাতরোগে জাতক বেশীর ভাগই ভুগে থাকে। লিভার সংক্রান্ত পীড়া,কোষ্ঠকাঠিন্য,হজমশক্তির গোলমাল এবং হৃদরোগে উল্লেখযোগ্য কষ্ট পায়। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাতক প্রায়ই পাকস্থলীর রোগে উল্লেখযোগ্য কষ্ট পাবে। ঠান্ডা লাগা সম্বন্ধে জাতকের সতর্ক থাকা উচিত। অতিরিক্ত অশান্তি ও দুশ্চিন্তা রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ হয়ে দাড়াবে। নিরামিষ খাদ্য, দুগ্ধ ও ছানা স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতজনক।

যোগ্যতাঃ প্রত্যেক কাজে অগ্রসর হবার সময় একটা দ্বিধাগ্রস্থ ভাব জাতকের যোগ্যতা প্রকাশে বাধার কারণ হয়। মনস্থিরতা যোগ্যতা প্রকাশের জন্য একান্ত প্রয়োজন। কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সামান্য চাকুরী নিয়ে প্রবেশ করে কর্মদক্ষতার দ্বারা উন্নতি করতে সক্ষম হয়।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

স্মরণীয় বর্ষঃ ৮,১১,১৯,২৯,৩১,৩৫,৩৭,৪০,৪৪,৪৭,৫৪ এবং ৫৮।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন।

ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।