তুলা রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
তুলা রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠনঃ মধ্যমকায়,কৃষ্ণবর্ণ,সুন্দর মুখশ্রী ও শোভন চক্ষুর্দ্বয়।

স্বরূপঃ চর ও বায়ুরাশি,সমধাতু, রজোগুনী, পুরুষকারক, অধিপতি শুক্র, কালপুরুষের অঙ্গ বস্তি শীর্ষোদয়।

তুলারাশির বৈশিষ্ট্যঃ রাশি চক্রের সপ্তমরাশি তুলা। তার প্রতীক তৌলদন্ড (দাড়িপাল্লা)। তুলার অধিপতি শুক্র। আবার তুলার অষ্টমস্থ বৃষরাশির অধিপতিও শুক্র। পার্থিব ভোগ সুখের কারক এই শুক্র। কিন্তু মনে রাখতে হবে তৌলদন্ডে মেপে নেওয়ার কথা অর্থাৎ জীবনের মাপকাঠির যেন এদিক-ওদিক না হয়। তুলার দ্বাদশ রাশি কন্যা ও দ্বিতীয় রাশি বৃশ্চিক। বুধ বোধন শক্তির কারক ও মঙ্গল দৈহিক শক্তি ও সাহসের কারক। শুক্রকে দৈত্যগুরু বলা হয় কারণ সাংসারিক ব্যাপারে সর্ববিদ্যার কারক এই শুক্র। শুক্র প্রেম,ভালবাসা ও পার্থিব ব্যাপারে আসক্তির কারক। বুধ, শনি (চতুর্থপতি, পঞ্চমপতি - বিদ্যা ও বুদ্ধি), চন্দ্র (তুলার কর্মপতি) ও রবি সহায়ক হলে শুক্রের শক্তি লোকহিতার্থে,বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপে উন্নতির বিশেষ সহায়ক হতে পারে।

তুলারাশির জাতক-জাতিকার বিচার-বিশ্লেষণের ও লোকচরিত্র বোঝবার ক্ষমতাও রয়েছে। চিত্রা, স্বাতী ও বিশাখা এই তিনটি নক্ষত্রের সমবায়ে এই রাশি। চিত্রার মধ্যে রয়েছে শিল্পীর গুণ ও লোকরঞ্জক ক্ষমতা। চিত্রার জাতকের, বুধ অনুকূল থাকলে কল্পনা-কুশলতার বৈশিষ্ট্য গুণও রয়েছে। স্বাতীর মধ্যে রয়েছে চিন্তার গভীরতা ও অন্যকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা ধীরস্থির ভাবে নিজের দৃষ্টিতে স্বাতীর জাতক অন্যের অন্তরকে বুঝতে পারেন। সৃষ্টিধর্মী কাজেও বিচিত্রতার আভাস। সৃষ্টিধর্মী কাজ ও বিচার বিবেচনার কাজে তুলার জাতকের বিশেষ আগ্রহ থাকে। বিচারক, আইনজীবি, শিল্পী ও চিন্তাবিদদের ক্ষমতা রয়েছে তুলার জাতকের মধ্যে। স্পষ্টবাদিতা ও ন্যায়নিষ্ঠা অনেক সময় তাদের সাধারণ স্বার্থসর্বস্বদের কাছে অপ্রিয় করে তুলতে পারে। প্রেম-ভালবাসার সঙ্গে ত্যাগ স্বীকার তাদের বিশেষ গুণ। অবশ্য শনি ও শুক্র জন্মকালে বিরূপ থাকলে তুলার জাতক বিপথগামী হতে পারে।

আনন্দের নেশা প্রবল। অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে জাতক ন্যায়সঙ্গত মত স্থাপনে পশ্চাৎপদ হবে না। পরিশ্রমী ও কষ্টসহিষ্ণু। প্রেম ও ভালবাসার মূর্তপ্রতীক। তুলারাশির জাতক সব কাজ নিখুঁতভাবে করতে চাইবে। ভোগবিলাসে জাতকের সুরুচি প্রকাশ পাবে। সুখ ও দুঃখকে সমানভাবে গ্রহণ করে থাকে। সামাজিক ব্যবহার অত্যন্ত মধুর। নিজের সাধনার পথে অবিচল থেকে তার সুষ্ঠ রূপায়ণে সচেষ্ট হবে। আত্মবিশ্বাস জাতকের মধ্যে খুব বেশী থাকবে। তুলারাশির চরিত্রের দৃঢ়তা দেখাবার মত। সবার সঙ্গে মিশতে পটু। ভবিষ্যৎ ঘটনার ছায়া অনেক সময় জাতকের মনে অনেক আগে থেকেই রেখাপাত করে। জাতকের চরিত্র বাইরে থেকে সম্যক বোঝা যাবে না। দায়িত্ববোধ প্রবল। প্রীতির পাত্রের জন্য কোন ত্যাগ স্বীকারে কুন্ঠিত হয় না।

ভাগ্যঃ তুলারাশির জাতকের ভাগ্যের মধ্যবয়সের কাছাকাছি সময়েই বিশেষ উন্নতি হয়। প্রথম বয়সে ভাগ্য সাধারণতঃ অনিশ্চিত থাকবে। ৩৯ থেকে ৪৫ বর্ষ সময়টি জাতক বিশেষ আনন্দে কাটায়। জাতকের অজানা কিছু থাকে না। শিক্ষক, উপদেষ্টা এবং সরকারী/বেসরকারী বা পৌর-প্রতিষ্ঠানের কাজে আর্থিক দিকে লাভবান হন। জ্যোতিষ ও তন্ত্রশাস্ত্রের চর্চায় জাতক বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হন। কর্মক্ষেত্রে জাতকের তেমন শত্রু থাকে না বললেই চলে। পরিণত বয়সে ব্যবসায়ে বা চাকুরীতে অবস্থানুযায়ী প্রতিষ্ঠা অবশ্যই হয়ে থাকে।

কর্মজীবনঃ কর্মজীবনে জাতক খুবই সংযত ও কর্তব্যপরায়ণ। কোনমতেই কোন কাজে গাফিলতি করে না। অধ্যবসায় ও নিষ্ঠা প্রবল বলে গবেষণামূলক কাজ, সংগঠনমূলক কাজ এবং পুস্তক,ঔষধপত্র ও যাত্রা থিয়েটারের সাজসরঞ্জাম,জুয়েলারী প্রভৃতি কাজে জাতক প্রতিষ্ঠা পাবে। কর্মজীবনে উন্নতিই হয় বেশীরভাগ ক্ষেত্রে।

প্রেম, বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনঃ বিবাহিত জীবন সুখের হয়। তীব্র বাসনা ও কামনা জাতককে বিশেষভাবে উত্তেজিত করে তোলে। স্ত্রী সুন্দরী ও বিদুষী হয়। দাম্পত্যজীবনে জাতক স্ত্রীকে একান্তভাবে পেতে চায়। নিবিড় প্রীতির সম্পর্কও যেমন থাকবে তেমনি মনকষাকষিও কম হবে না। বিবাহোত্তর জীবন জাতকের বিশেষ আনন্দমুখর হয়। স্ত্রীর প্রভাবে উন্নতির সক্ষম হয়। স্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে জাতককে বিশেষ কষ্ট পেতে হয়। কোন দূরারোগ্য ব্যাধির প্রকোপ থেকে স্ত্রীকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সন্তান সংখ্যা মাঝামাঝি হয়। মধ্যবয়সে হঠাৎ কোন স্ত্রীলোকের প্রতি জাতকের আকর্ষণ দেখা দেয়।

বন্ধুভাগ্যঃ জাতকের লোক চেনার ক্ষমতা অপরিসীম। তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও শাণিত দৃষ্টির প্রভাবে সহজেই প্রকৃত বন্ধুকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। বন্ধু খুব সীমিত হয়। বন্ধুরা স্বভাবতঃ প্রীতিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হয়ে থাকে। বিদেশী কোন বন্ধুর দ্বারা জাতক বিশেষ উপকৃত হয়।

স্বাস্থ্যঃ অত্যন্ত আরামপ্রিয়তা বিলাসিতা ও দীর্ঘসূত্রতার জন্য জাতকের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস,হজমের গন্ডগোল,বাত, পক্ষাঘাত, চক্ষুরোগ এবং মানসিক রোগে জাতক বিশেষভাবে ভুগবে। শর্করাজাতীয় খাদ্য একেবারেই বর্জন করা ভাল। তুলারাশির জাতকের স্বাস্থ্য সাধারণতঃ অটুট এবং সৌম্যদর্শন হয়। যোগ ব্যায়াম ও যোগ নিদ্রার অভ্যাস জাতকের স্বাস্থ্যোন্নতির পক্ষে অপরিহার্য। তাছাড়া সাত্ত্বিক আহারও প্রয়োজন। ৩৮ থেকে ৪৯ বর্ষ মধ্যে মুত্রাশয়ের পীড়া,বাত ও চক্ষুরোগ এবং হজমের গোলমালে বিশেষ কষ্ট পাবে।

যোগ্যতাঃ গবেষণার কাজে,গণিত ও হিসাবশাস্ত্রে ও আধ্যাত্মিক সাধনায় জাতকের যোগ্যতা প্রকাশ পায়। ব্যবসায়েও জাতক আশানুরূপ যোগ্যতা দেখাতে সক্ষম হয়। জাতকের আত্মবিশ্বাস প্রবল বলে সহজেই যে কোন ব্যাপারে দক্ষতা দেখাতে ও লোককে চমৎকৃত করে দিতে পারে। ২৯ থেকে ৪৯ বর্ষ পর্যন্ত সময় বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই সময়েই জাতক প্রতিষ্ঠা অর্জনে সমর্থ হয় সাধারণত।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

শুভবর্ণঃ বেগুনী, রূপালী, নীল ও গাঢ় লাল।

স্মরণীয় বর্ষঃ ৭,২১,২৭,২৯,৩৫,৩৯,৪২,৪৯,৫৪ এবং ৬৪ বর্ষ।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন।

ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।