কর্কট রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
কর্কট রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠনঃ শ্বেত ও রক্তমিশ্রিত বর্ণ। শরীরের উপরিভাগ দীর্ঘ এবং নিন্মভাগ হৃস্ব ও স্থুলাঙ্গ, গোলাকার মুখ, শ্বেত চক্ষুদ্বয় এবং কৃষ্ণবর্ণ কেশ।
 
স্বরূপঃ চর, জলরাশি, স্ত্রী-কারক, শ্লেষ্মাপ্রকৃতি, সত্ত্বগুণী, অধিপতি, চন্দ্র, কালপুরুষের হৃদয়, পৃষ্ঠোদয়।

পুনর্বসুর ৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট, পুষ্যার ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট,অশ্লেষার ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট নিয়ে কর্কটরাশি গঠিত। অধিপতি চন্দ্র মনের কারক,চর ও জলরাশি, পূর্ণ প্রজ্ঞার কারক, বৃহস্পতির তুঙ্গ বা উচ্চস্থান, অহং ও দন্তের কারক মঙ্গলের নীচস্থান।

কর্কটরাশির বৈশিষ্ট্যঃ রাশিচক্রের চতুর্থ রাশি কর্কট। বারোটি রাশির প্রথমে কেন্দ্র মেষ, দ্বিতীয় কেন্দ্র কর্কট, তৃতীয় কেন্দ্র তুলা এবং চতুর্থ কেন্দ্র মকর। কর্কটের বাংলা কাঁকড়া। তার অর্থ যাই থাকুক না কেন,কর্কট রাশি চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাশি। এটি জলরাশি। সুতরাং এর মধ্যে আবেগ থাকে বেশী। উত্তাল তরঙ্গ রয়েছে এর মাঝে। মাঝে  মাঝে  নিস্তব্ধ। সমতাই এর প্রধান গুণ।

কর্কট রাশির অধিপতি চন্দ্র। চন্দ্র মনের কারক। সুতরাং মানসিকতার দিক থেকে এই রাশি ও চন্দ্রের গুরুত্ব অনেকখানি। অন্য রাশিতে জন্ম হলেও কর্কটের অবস্থা জাতক জাতিকার জন্মকুন্ডলী বিচারে বিশেষভাবে দেখতে হয়। কর্কটের মধ্যে রয়েছে অন্তর্মুখী ভাবাবেগ, চিন্তাশক্তি ও বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি। চন্দ্র আর বৃহস্পতি কর্কটের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ। কর্কট হচ্ছে চন্দ্রের স্বক্ষেত্র এবং বৃহস্পতি উচ্চক্ষেত্র। সুতরাং এই শুভ গ্রহদ্বয় মীনে কিংবা কর্কটে, অথবা উভয়ের মধ্যে ক্ষেত্রবিনিময় ঘটলে জাতকের জীবন মহীয়ান হয়ে উঠতে পারে। কর্কটের সপ্তম স্থান ও অষ্টম স্থানের অধিপতি শনি। সুতরাং শনি অশুভ হলে অনেক বিশেষত্ব ও এই সঙ্গে রবি ও বৃহস্পতি শুভ হলে, সংসার জীবনে মাথা তুলে দাঁড়াবার বা নেতৃত্বের বিশেষ শক্তির অধিকারী হয়। মঙ্গল কর্কটের পঞ্চম ও দশম স্থানের অধিপতি। মঙ্গলের শুভাশুভ কর্মক্ষেত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

জাতক অদ্ভুত খেয়ালী। অতিরিক্ত কল্পনাপ্রবণ ও ভাবপ্রবণ। সকলের কাছ হতে প্রশংসা পেতে চাইবে জাতক। পরোপকারের দিকে ঝোঁক প্রবল। সবাইকে আপন করে নেবার দিকে একটা ঝোঁক থাকবে। জাতক সর্বদা নিজের ভোগবিলাসের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে। রোমান্সের দিকে অত্যন্ত ঝোঁক পড়বে। স্মৃতিশক্তি ও ধারণাশক্তি খুব তীক্ষ্ণ। যে কাজে হাত দেবে তা তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। অপরকে অতি সহজেই বিশ্বাস করে জাতক। জীবন যুদ্ধে জাতক কখনও পিছিয়ে পড়তে চাইবে না। গোপনাত রক্ষার দিকে জাতক সর্বদা চেষ্টা করবে। আধ্যাত্মিক দিকেও প্রবল হয়ে থাকে। সব কাজেই প্রায় বুদ্ধিনৈপুন্য প্রকাশ পায়। নিজের মনকে জাতক বেশী প্রাধান্য দেয়। সেজন্য অপরের মনের গুহার খবর রাখতে অসমর্থ হয়। মনের মধ্যে সর্বদা ওঠাপড়া চলে। আনন্দের নেশা অত্যন্ত প্রবল হয়। হঠাৎক্রোধী। জাতকের মধ্যে একটা অসংযমী ভাব প্রকাশ পায়। কোনটা ভাল কোনটা মন্দ সহজে বুঝে উঠতে পারে না।

ভাগ্যঃ প্রথম জীবনেই জাতকের ভাগ্য বিশেষ করে উন্নত হয়। জাতকের মধ্যে প্রতিষ্ঠা ও সুনাম পাওয়ার নেশা প্রবল হয়ে দেখা দেয়। ব্যক্তিগত চেষ্টায় সাংসারিক জীবনেও সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে সক্ষম হয়। সাধারণতঃ ব্যবসা ও চাকুরী উভয়বিধ ভাবেই জাতকের অর্থোপার্জন ঘটে। কন্ট্রাক্টরী, সাহিত্যচর্চা, মনোহারী ও রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবসায়, বৈদেশিক দ্রব্য আমদানী এবং আইন ব্যবসায়ে বিশেষ অর্থোপার্জন সমর্থ হন। ২২ থেকে ২৯ বর্ষ সময় জাতকের জীবনে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। অমিতব্যয়িতার জন্য এক সময়ে অর্থাভাব খুব তীব্র হয়ে দেখা দেবে। আবার অন্য সময়ে অর্থের প্রাচুর্য দেখা যাবে। ৩১ থেকে ৩৯ বর্ষ সময়ে জাতক প্রভূত অর্থের অধিকারী হয়ে থাকবে।

কর্মজীবনঃ জাতকের কর্মশক্তি অপরিসীম। যে কাজে একবার লেগে পড়বে তাতে আপ্রাণ চেষ্টা ও পরিশ্রম দিয়ে তাকে সাফল্যমন্ডিত করবেই। কর্কটের ধনভাগ্য এবং কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা জাতকের মানসিক অবস্থার উপরই সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তবে এমন কোন কাজ নেই যা কর্কটের জাতকের দুঃসাধ্য। অতিরিক্ত আরামপ্রিয়তা ও খামখেয়ালী ভাবের জন্য সাফল্যে প্রায় বাধা আসবে। ব্যাঙ্ক, জবিনবীমা উদ্যোগ,রেল ও বর্হিবাণিজ্যে দপ্তরের কাজে বিশেষ দক্ষতা দেখাতে সক্ষম। ২৪ থেকে ৪৮ বর্ষ সময়ে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির সহায়তায় জাতকের কর্মজীবন মহিমাময় হয়ে ওঠে।

প্রেম, বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনঃ কর্কটের জাতক নারীপ্রিয়। স্ত্রীলোকেরা জাতকের সান্নিধ্য পাবার জন্য সর্বদা উন্মুখ। প্রেমের ব্যাপারে জাতক একটা জটিল রহস্যের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খায়। বিবাহিত জীবন যাত্রা বিশেষ সুখকর হয় না। জাতকের ইন্দ্রিয়ক্ষুধা প্রবল। এবং অত্যন্ত নারীসঙ্গলোলুপ। জাতক নায়িকাকে কেন্দ্র করে কল্পনা ও রোমান্সের নবরাগ আকে। বিবাহের পরেও অন্য নারীর প্রতি আসক্তি থাকবে। কিন্তু যার প্রতি গভীর ভালবাসা প্রকাশ করবে সে হয়ত জাতকের প্রতি নিস্পৃহ হবে। জাতকের স্ত্রী সুন্দরী,বিলাসিনী ও কর্তৃত্বপ্রিয়া হয়। ২৪ থেকে ২৯ বর্ষ বয়সের মধ্যে বিবাহ ঘটে থাকে। বিবাহিত জীবনে জাতক প্রায়ই উদাসীন থাকে। সন্তান স্থান শুভ। ৪টি সন্তান যোগ। সন্তানের জন্য জাতকের মনঃপীড়া দেখা দেয়। বৃহৎ সুখের আশায় বর্তমানকে ছেড়ে গিয়ে আজীবন যন্ত্রণা ভোগ করে। বিবাহ গোপন থাকে।

বন্ধুভাগ্যঃ বন্ধুভাগ্য বিশেষ ভাল হয় না,যদিও পরিচিত ব্যক্তির সংখ্যা অধিক থাকে। আত্মকেন্দ্রিকতার জন্য ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের অভাব ঘটে। প্রয়োজনবোধে জাতক যে কোন লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারবে। বান্ধবীর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনীয়।

স্বাস্থ্যঃ জাতকের দেহশ্রী সুন্দর হলেও স্বাস্থ্য বিশেষ ভাল যায় না। ফুসফুসের পীড়া, চক্ষুপীড়া, বাত, পাকস্থলীর বৈকল্য,টনসিল, শ্লেষ্মা-সংক্রান্ত পীড়ায় জাতক বিশেষ কষ্ট পায়। মদ্যপান, ধুমপান একেবারেই পরিহার করা উচিত। ঠান্ডা লেগে অবস্থা ভয়াবহ হওয়ার যোগ প্রবল। খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে অনিয়মের কঠিন পীড়ার সৃষ্টি করে তুলবে। যৌন আকর্ষণ হেতু যৌনব্যাধিতেও জাতক আক্রান্ত হয়ে কষ্ট পাবে। সর্বতোভাবে সংযম অপরিহার্য।

যোগ্যতাঃ প্রায় সব কাজেই জাতক যোগ্যতা দেখাতে সক্ষম হয়। ঠিকাদারী, অভিনয়, কারো প্রতিনিধি হিসাবে কাজে বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে পারবে। চিকিৎসা ও আইনবিদ্যা এবং প্রকাশনার কাজেও জাতক পারদর্শিতা দেখাতে সক্ষম হবে। সমাজে বিশিষ্ট আসন পেতে জাতকের বেশী পরিশ্রম করতে হয় না। একমাত্র প্রেমের ব্যাপারেই জাতক বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না। অতিরিক্ত ভাবপ্রবণতা ও অভিমানের জন্য।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

শুভবর্ণঃ সোনালী, সাদা, রূপোলী, কচি কলাপাতা রং ও নীল।

স্মরণীয় বর্ষঃ ১০,১৫,১৭,১৮,২০,২৫,২৯,৩২, এবং ৪০ ও ৪৫ বর্ষ।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন। ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।