কন্যা রাশির প্রকৃতি

রাশিচক্র
 
কন্যা রাশির প্রকৃতি (চন্দ্রস্থিত রাশি অর্থাৎকোষ্ঠী মতে) পত্রিকা মতে নয় –
 
দৈহিক গঠনঃ মধ্যমাকৃতি কৃষ্ণদেহ,বিচিত্র বর্ণ,কৃষ্ণচক্ষুর্দ্বয় ও ঘনকৃষ্ণ কেশ।

উত্তরফল্গুনীর ১০ ডিগ্রী,হস্তার ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট এবং চিত্রার ৬ ডিগ্রী ৪০ মিনিট নিয়ে কন্যা রাশি গঠিত। অধিপতি গ্রহ বুধ।

কন্যা রাশির বৈশিষ্ট্যঃ শরৎ ঋতুর দ্বিতীয় রাশি এই কন্যা। ভাদ্র ও আশ্বিনে হয় শরৎ ঋতু। ভাদ্রে যে সৌন্দর্য প্রকৃতির মধ্যে ফুটে ওঠে আশ্বিনে তা হয় পরিপূর্ণ। কন্যারাশির ছবিতে দেখা যায় ধানের শিষ হাতে দাড়িয়ে রয়েছে একটি কন্যা। এই সময় পৃথিবী শস্যশ্যামলা হয়ে এক নতুন রূপ ধারণ করে। বুধের দ্বিতীয় ক্ষেত্র এই কন্যা। মিথুন ও বুধের ক্ষেত্র। যে পরিপূর্ণতার জন্য ধরিত্রী ব্যাকুল,সেই পরিপূর্ণতা দেয় এই রাশি। লোকমানসে এই রাশির বিশেষ প্রভাব রয়েছে। লোকমানসে কুমারী কন্যা পবিত্রতার প্রতীক যার প্রসন্ন সরলতা মানুষের মনে আশ্বাস আনে। কন্যার মধ্যে যেমন পবিত্রতা, সরলতা ও সদগুণের স্বকীয়তা রয়েছে, তেমনি জন্মকালে বুধ দুর্বল হলে অশুভ গ্রহের প্রবাবে তার জীবনকে কামনা-বাসনার পঙ্কিলতায় বিপথেও চালিত করতে পারে। কন্যালগ্নই হোক কিংবা রাশিই হোক,কন্যার জাতক জাতিকার মধ্যে আকর্ষণী শক্তি রয়েছে।

তিনটি নক্ষত্র পড়ে এক রাশিতে উত্তরফল্গুনী, হস্তা ও চিত্রা। উত্তরফল্গুনীর গোড়ার অংশ পড়েছে সিংহে, অর্থাৎ সিংহে যার আবাস বা বীজ বপন তারই পূর্ণতা ঘটায় কন্যায় উত্তরফল্গুনী। পৃথিবীকে শস্যশ্যামলা করে তোলার মূলে রয়েছে তার প্রভাব। হস্তার মধ্যে রয়েছে সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তোলার বা তাকে উপভোগ করার শক্তি। চিত্রা রঙিন করে তোলে মনের শক্তিকে। তিনটি নক্ষত্রের মধ্যেই সৌন্দর্য উপভোগের মহান শক্তি। পরের দুঃখ দূর করতে কন্যার জাতক জাতিকার মধ্যে থাকে প্রবল আকাঙ্খা। মিথুনের বুধ এখানে হয় সক্রিয়। বোধশক্তির পরিপূরণেই তার প্রভাব। সঙ্গীত, কলা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে এই রাশির জাতক জাতিকার মধ্যে থাকে স্বাভাবিক অনুভূতি। অবশ্য এই সঙ্গে বুধ, রবি ও মঙ্গল শুভ থাকলে বিজ্ঞানের দিকেও কন্যার জাতককে অনুপ্রাণিত করতে পারে। অন্যান্য রাশি ও গ্রহের অবস্থান অনুকূল হলে কন্যার জাতক জাতিকা কোন না কোন ভাবে কোন সময়ে নিজেকে বিশিষ্ট ভূমিকায় লোকমনের প্রীতি ও শ্রদ্ধার আসনে নিয়ে যেতে পারে। কন্যার জাতিকার মধ্যেও রয়েছে এই গুণ। শিক্ষার ক্ষেত্রেও কন্যার প্রভাব বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

লোকহিতকর কাজে এবং শিক্ষার জগতেও কন্যার জাতক-জাতিকার বিশেষ আগ্রহ থাকতে পারে। কন্যার জাতকের পক্ষেও শুক্রও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ। বুধ ও শুক্রের শুভ অবস্থানের উপর তাদের জীবনের সাফল্যের অনেকখানি নির্ভর করে। তারপর বৃহস্পতির তথা চতুর্থ (বিদ্যা,মাতা ও বন্ধু) ও সপ্তম (আনন্দ উপভোগের স্থান ও পত্নী অথবা স্বামীর ভাব) স্থানের অবস্থা বিবেচ্য।

কন্যারাশির জাতক অত্যন্ত প্রশংসাপ্রিয়। অপরের প্রশংসাবানী না পেলে জাতক কোন কাজেই উৎসাহ পাবে না। সবাইকে আপনার করে নেবার একটা প্রবল ইচ্ছা জাতকের মধ্যে দেখা যায়। জাতকের কাছে আপন-পর ভেদ নেই। অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও আমোদ আহ্লাদপ্রিয়। কন্যার জাতকের আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত প্রবল। যে কোন অবস্থার সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতা অপরিসীম। অদ্ভুত খেয়ালী ও রোমান্সপ্রিয়। আত্মভিমান অত্যন্ত বেশী। কারো সমালোচনা জাতকের অসহ্য। ভ্রমণে খুব আনন্দ পায়। কিন্তু জাতক যখন ঘরে থাকবে তখন প্রবাসের চঞ্চল আনন্দের সন্ধান করবে। আবার যখন প্রবাসে থাকবে তখন গৃহসুখের জন্য মন লালায়িত হবে। যৌনাকর্ষণও জাতকের মধ্যে তীব্রভাবে দেখা যায়। জাতকের দেহসৌন্দর্য সহজেই অন্যকে আকর্ষণ করে। সর্বস্তরের লোকের সঙ্গে জাতক প্রীতির সম্পর্ক স্থাপনে সমর্থ হয়। অপরের মিষ্টি কথায় আস্থা স্থাপন করে জাতক বার বার ঠকে। কারণ অন্যরা জাতককে সামনে রেখে তাদের অন্যায় স্বার্থ নিয়ে নিন্দা ও অখ্যাতি জাতকের ঘাড়ে চাপায়। জাতক বার বার ঠকলেও মানুষের উপর বিশ্বাস হারায় না। সব কাজের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তবেই কাজে অগ্রসর হয়। মাঝে মাঝে জাতকের মধ্যে উদাসীনতা প্রকাশ পায়।

ভাগ্যঃ জাতককে মোটামুটি ভাগ্যবান বলা যায়। কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জাতকের উদাসীনতা মধ্যবয়সে অর্থকষ্ট এনে দেয়,জাতক অমিতব্যয়ী হয়। ব্যবসায়েও জাতক প্রতিষ্ঠা পায়। জাতক ভীষণ অদৃষ্টবাদী হয়। ভোগবিলাসে বেশী অর্থ ব্যয় করে। ২৮ থেকে ৪৮ বর্ষ সময় জাতকের পক্ষে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই সময়ের মধ্যে অর্থ, সম্পত্তিলাভ,গৃহাদি নির্মাণ,কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা ও সুনাম লাভ হয়ে থাকে। ব্যবসাবুদ্ধি অত্যন্ত প্রখর হয়। ঠিকাদারী, জ্যোতিষ ব্যবসা, কাগজ, বনজ দ্রব্যের ব্যবসা, প্রেস ও পুস্তক প্রকাশনা,চিত্রবিদ্যা ও সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যমে জাতকের অর্থলাভ ঘটে থাকে। প্রথম জীবনে নানা বিঘ্নের মধ্যে কাটলেও মধ্য জীবনে বিশেষ উন্নতি করতে সমর্থ হয়। নিজের অবিমৃষ্যকারিতায় নিজের শেষ জীবন বিশেষ কষ্টের মধ্যে কাটে। মিতব্যয়িতা অবলম্বন করলে জীবনযাত্রায় অর্থের অভাব দেখা দেয় না।

কর্মজীবনঃ জাতকের কর্মপ্রবণতা নানাভাবে প্রকাশ পায়। কর্ম-প্রতিষ্ঠার জন্যে জাতককে বিশেষ বেগ পেতে হয় না। চাকুরী অপেক্ষা স্বাধীন ব্যবসায়েই জাতক বিশেষ প্রতিষ্ঠা পায়। জাতকের মধ্যে অর্থোপার্জনের ফন্দি-ফিকির প্রবল। শুক্র দুর্বল হলে কর্মবিভ্রাট এবং অসাফল্য দেখা দেয়। ২৪ বর্ষ থেকেই কর্মযোগ শুরু হয়। বৃহস্পতি এবং শনির শুভপ্রভাব পেলে জাতকের কর্মজীবনে শেষ বয়সে সবিশেষ উন্নতি হয়।

প্রেম, বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনঃ জাতকের জীবনের প্রথম ধাপ থেকেই বিচিত্র প্রেমের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়। খুব সহজেই যে কোন স্তরের নারীর সঙ্গে মেলামেশা করতে সক্ষম হন। জাতকের ভালবাসার গভীরতার সন্ধান সহজে কেউ ধরতে পারে না। প্রেম বস্তুটিকে জাতক সব সময় একটা পবিত্র আনন্দঘন মূর্তিরূপেই দেখে থাকে। এবং কামনা-বাসনার অনেক উর্ধে থাকে। প্রিয়-পাত্রী বা প্রেমিকার জন্য জাতক যে কোন ত্যাগ স্বীকারে কুন্ঠিত হয় না। প্রেমিকার জীবনকে অবিস্মরণীয় করবার জন্য ব্যাকুল হয়। বিবাহিত জীবন সুখের হয়। অল্প বয়সেই বিবাহের পাট চুকে যায়। জাতকের দুই বিবাহ যোগ প্রবল। ১৯ থেকে ২৯ এর মধ্যে সাধারণতঃ বিবাহ হয়ে থাকে। প্রণয় পাত্রী সহজে জাতককে বিশ্বাস করতে পারে না। কেবলই মিথ্যা সন্দেহের দোলায় দুলতে থাকে। সন্তানস্থান শুভ। ৪টির মত সন্তান। ১ম সন্তানের দীর্ঘায়ু কম হয়।

বন্ধুভাগ্যঃ বন্ধু-সৌভাগ্য অপরিসীম। জাতক বহু বন্ধুযুক্ত হন। বন্ধুর সাহায্যে জাতক বিশেষ প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভে সমর্থ হন। জাতকও বন্ধুর জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে কুন্ঠিত হন না। বন্ধুরা বিশ্বাসঘাতকতা করলেও জাতক বন্ধুর প্রতি স্নেহশীল থাকেন।

স্বাস্থ্যঃ জাতকের স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালই থাকে। অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তাজনিত ব্যাধি, পেটের পীড়া, প্লুরিসি, হৃদরোগ, আমাশয় ও কোষ্ঠকাঠিন্যে এবং হার্নিয়ায় জাতক বিশেষ কষ্ট পায়। অহেতুক দুঃশ্চিন্তা অনেক রোগের সৃষ্টি করে তোলে। তাছাড়া প্রথম আক্রমণের সময়েই জাতকের মনে একটা অহেতুক ত্রাসের সঞ্চার হয়। এই বুঝি রোগ কঠিন আকার ধারণ করল। মনের ব্যাধিতেই জাতক বেশী ভুগবে।

যোগ্যতাঃ নানা বিষয়ে যোগ্যতা প্রকাশ পাবে। জাতক তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও প্রত্যুৎপন্নমতি সম্পন্ন। যে কোন কঠিন কাজেও জাতকরে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যাবে। সাহিত্যচর্চা, সঙ্গীতচর্চা, রাজনীতি, ধর্মযাজকতা প্রভৃতিতে জাতক বিশেষ যোগ্যতার পরিচয় দিতে সমর্থ হন। উপরওয়ালদের মন সহজেই পেয়ে থাকেন। উত্থান-পতন, জয়-পরাজয়, সুখ-দুঃখ নিয়েই কন্যারাশির জাতকের জীবন কাটে।

রত্নপাথরঃ জন্মছক বিচার সাপেক্ষে।

শুভবর্ণঃ বাদামী, ঘি রং , দুর্বাঘাসের মত রং , হালকা আকাশী এবং সবুজ।

স্মরণীয় বর্ষঃ ৩,৫,৯,১৪,১৯,২১,২৫,২৮,৩২,৩৯,৪২,৪৭ ও ৫৩।

(উল্লেখিত ফলাফল নারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।)

ব্যক্তিগত জন্ম সময় অনুসারে গ্রহ সংস্থান এবং তদানুসার দশা-অন্তর্দশা, অষ্টবর্গ, ষন্নাড়ীচক্র, ত্রিপাপচক্র, সপ্তশূন্য বিচার, ষোড়ষবর্গ বিচার প্রভৃত ফলকে স্থির ভাগ্যফল বলে। সুতরাং সুক্ষ্ণ স্থির অথবা সুক্ষ্ণ অস্থরি ভাগ্যফল জানত হলে ব্যক্তিগত কোষ্ঠী অথবা সাল, মাস, তারখি, সময় এবং জন্মস্থান একান্ত প্রয়োজন। ভাগ্য বলতে এখানে সুসময় এবং দুঃসময়কে বুঝানো হয়ছে। ড. হাসান কবির ভাগ্য গণনা করনে না। তিনি সুসময় ও দুঃসময় গণনা কর থাকেন। রমনী বা নারীশ্রেনীগণ বিবাহিত ও অবিবাহিত স্থলে বিবাহিতা অবিবাহিতা পড়ে নিবেন। এরুপ সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গান্তর পরবির্তন করে পড়ে নিবেন। যেমন : স্ত্রীর স্থলে স্বামী ইত্যাদি ইত্যাদি।